যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে গত শনিবার থেকে ইরানে ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে। ইরানও পাল্টা জবাব দিতে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে। এতে অগ্নিগর্ভে পরিণত হয়েছে গোটা মধ্যপ্রাচ্য।
এই যুদ্ধের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে তেলের উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাপত হচ্ছে। এরই মধ্যে ওই অঞ্চলের জ্বালানি তেল পরিবহণের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ইরানের ওপর অনেক নিষেধাজ্ঞা আছে। তা সত্ত্বেও ইরানের তেল বিক্রি থেমে নেই। ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হচ্ছে চীন। বাস্তবতা হলো, ডলার এড়িয়ে তেল কেনা চীনের পক্ষে লাভজনক। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সময়ে ইরান থেকে তেল কিনতে ডলারের বদলে অন্য মুদ্রা ব্যবহার করতে চেয়েছিল চীন। ইরানের মোট তেল রফতানির ৯০ শতাংশই কেনে চীন। ২০২৫ সালে চীন জলপথে যত অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে, তার ১৩-১৪ শতাংশ এসেছে ইরান থেকে। একাধিক প্রতিবেদনের সূত্রে এনডিটিভি জানিয়েছে, এই তেলের দাম মেটানো হয়েছে চীনা মুদ্রা ইউয়ানে, তা–ও আবার ঘুরপথে।
ভারতের এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ম্যাগনাম ফিনভেস্ট সার্ভিসেসের সৌরভ জৈন জানিয়েছেন, এই লেনদেনের পেছনে আছে স্বল্পপরিচিত এক চীনা ব্যাংক, নাম ব্যাংক অব কুনলুন। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থার অধীন থাকা এই ব্যাংক মূলত বাণিজ্যিক লেনদেন সম্পন্ন করে থাকে। চীন-ইরান তেল ব্যবসায় আর্থিক লেনদেনের মাধ্যম ছিল এই ব্যাংক। ডলারের বদলে ইউয়ানে তেলের দাম মেটানো এবং ঘুরপথে সেই ইউয়ান চীনের বাজারে নিয়ে আসা, এ প্রক্রিয়ার পরিকল্পনার মূল হোতা এই ব্যাংক।
এনডিটিভির সংবাদ অনুসারে, সরকারিভাবে ইরান থেকে তেল কিনতে পারে না চীন। ইরানের তেলকে মালয়েশিয়ার তেল পরিচয় দিয়ে জাহাজে করে চীনে আনা হয়। নিষেধাজ্ঞা থাকায় ডলারে লেনদেন হলে নজরে পড়ে যাবে। সেই কারণেই কুনলুন ব্যাংকের মাধ্যম ইউয়ানে তেলের দাম মেটানো হতো।
যেহেতু চীনা মুদ্রায় দাম মেটানো হয়েছে, সেহেতু চীনের বাজারেই সেটা খরচ করতে একপ্রকার বাধ্য থাকত ইরান। চীনা যন্ত্রপাতি, বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ, অবকাঠামোগত সামগ্রী থেকে শুরু করে আরও অনেক কিছু কেনে ইরান। ফলে তেলের জন্য যে টাকা চীন খরচ করে, তা ঘুরপথে চীনের অর্থনীতিতেই প্রবেশ করে।










