রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের পর হিমালয়ের দেশ নেপালে ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে সাধারণ নির্বাচন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৬৫টি এবং আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে ১১০টি আসনের চূড়ান্ত ফল আগামী সপ্তাহের মধ্যে ঘোষণা হওয়ার কথা। তবে রোববার আংশিক সরকারি ফলাফলে দেখা গেছে-ভূমিধস জয়ের পথে রয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) নেতা বালেন্দ্র শাহ। পুরোনো সব দলকে ছাপিয়ে তরুণ এই জেন-জি আইকন নির্বাচনে কিছু ব্যতিক্রমী পথ অবলম্বন করেছিলেন-যা তাকে এই সাফল্য এনে দিয়েছে। এএফপি, রয়টার্স।
বালেন্দ্র শাহর প্রচার কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে রয়টার্স আরএসপির ছয়জন নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন। জানা গেছে, প্রচারণার বড় অংশই সমন্বয় করা হয়েছে বালাজু এলাকায় অবস্থিত দলটির সদর দপ্তরের ওপরের তিনটি ফ্লোর থেকে। আর প্রচারণার খরচের বড় অংশের জোগান এসেছিল প্রবাসী নেপালিদের কাছ থেকে। আরএসপির জাতীয় প্রচারণা দলের সদস্য বিজ্ঞান গৌতম বলেন, মাঠ পর্যায়ের মানুষের কাছ থেকে আমরা যে সমর্থন এবং ভালোবাসা পেয়েছি তাতে আমরা অভিভূত। প্রতি আট দিনে একটি ভাষণ দিয়েছে আরএসপি। তাদের রাজনৈতিক কৌশলের কেন্দ্রবিন্দু ছিল গবেষণা, কৌশল এবং ডকুমেন্টেশন বিভাগ। পুরো এই প্রচারণার অংশটি ১১ সদস্যের একটি বোর্ড দ্বারা পরিচালিত হয়েছে। তারা ৩০০ দলীয় কর্মীকে তিনটি জাতীয় দলে বিভক্ত করেন এবং পৃথক প্রার্থীদের নেতৃত্বে ছোট দলগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। তিনজন নেতা জানিয়েছেন, জাতীয় পর্যায়ের এসব দল নির্বাচনি কৌশল নির্ধারণ, সমাবেশ আয়োজন, অনলাইন কনটেন্ট তৈরি ও ব্যবস্থাপনা এবং সারা দেশ থেকে প্রচারণা ও জনমতের তথ্য সংগ্রহের কাজ করেছে। ভোটের আগে দলটি খুব হিসাবি একটি কৌশলও অনুসরণ করেছে। বালেন্দ্র শাহ প্রতি আট দিনে একটি করে বড় ভাষণ দিয়েছে এবং প্রতিটি সমাবেশের বার্তা ৬৬০ সদস্যের সোশ্যাল মিডিয়া টিমের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরএসপি প্রতিদিন পাঁচটি থেকে সাতটি জেলায় রোড শো করেছে। একই দিনে নেপালের সাতটি প্রদেশের কোনো একটিতে বালেন্দ্র শাহ ভোটারদের সঙ্গে দেখা করতেন এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলটির এক নেতা বলেন, আপনি যদি বারবার বক্তৃতা দিতেই থাকেন তাহলে মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে যায়। আমরা বিরোধী দলগুলোকে আগে কিছু বিষয় উত্থাপন করতে দিয়েছি তারপর একবারেই জবাব দিয়েছি। এতে আমাদের বার্তাটা পরিষ্কার থাকে। সমতল থেকে পাহাড়ে নির্বাচনের আগে গত ডিসেম্বরে আরএসপিতে যোগ দেওয়ার আগে বালেন্দ্র শাহ ছিলেন রাজধানী শহর কাঠমান্ডুর মেয়র। ২০২২ সালে তিনি এই পদে নির্বাচিত হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেপালের অন্যতম জনপ্রিয় র্যাপ তারকা হিসাবে তার লাখ লাখ অনুসারী ছিল। সেই জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়েছেন তিনি।










