ঢাকায় সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়া বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনের অচল হয়ে পড়া একটি কোচ মেরামতে সম্পূর্ণ সচল হয়েছে দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায়। ৭৯৩৬ নম্বর ওই কোচটি দেখে আর বোঝার উপায় নেই, তা পুড়ে অচল হয়ে পড়েছিল। নতুন রুপে সাজানো কোচটি রেলের ট্রাফিক বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৬ জানুয়ারি রাত ৯টার দিকে ঢাকার গোপীবাগের কাছে বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।
এতে ৭৯৩৬ নম্বরের কোচটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায় এবং ওই কোচের চারজন যাত্রী আগুনে পুড়ে মারা যায়। এর মধ্যে নীলফামারীর সৈয়দপুর সেনানিবাসে অবস্থিত বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (বাউস্ট) মেধাবী ছাত্র আবু তালহাও মারা যান। কোচটি মেরামতের জন্য ওই বছরের ১৩ জানুয়ারি সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় পাঠানো হয়।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার শিডিউল শাখার ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসএই) রুহুল আমিন রুবেল জানান, এতদিন কোচটি সৈয়দপুর ইয়ার্ডে অপেক্ষমান ছিল।
এরপর চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ভারী মেরামতের জন্য তা কারখানার ক্যারেজ শপে (উপ-কারখানা) পাঠানো হয়। সেখানে ৫২ কর্মদিবসে ভারী মেরামত শেষে কোচটি সচল করা হয়। এতে পূর্বের অবস্থায় ফিরেছে কোচটি। কোচটি ২০২৪ সালেই চীন থেকে আমদানি করা হয়েছিল।
কারখানার ক্যারেজ শপের ইনচার্জ (এসএসএই) মমিনুল ইসলাম জানান, ভারী মেরামত শেষে শনিবার তা ট্রাফিক বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কোচটি আগের রূপে ফিরিয়ে আনতে কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীরা নিরলস পরিশ্রম করেছেন। এখন কোচটি দেখে বোঝার উপায় নেই যে এটি আগুনে পুড়ে বিবর্ণ ও অচল হয়ে পড়েছিল।
এ ব্যাপারে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফী নূর মোহাম্মদ জানান, ৭৯৩৬ নম্বরের পুড়ে যাওয়া কোচটি এবার ঈদযাত্রায় রেলবহরে যুক্ত হচ্ছে। আমরা কোচটিকে নতুনের মতো সাজিয়েছি।
এ কাজে কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীরা পারদর্শিতা দেখিয়েছে। এছাড়া কোচ মেরামতের টার্গেটের স্থলে ১২৬টি কোচ মেরামত করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন শ্রমিকরা।










