শুক্রবার | ২৭ মার্চ, ২০২৬ | ১৩ চৈত্র, ১৪৩২ | ৭ শাওয়াল, ১৪৪৭

পল্লবীতে যুবদল নেতা কিবরিয়া হত্যায় দুই ‘শুটার’ গ্রেফতার

যোগাযোগ রিপোর্ট

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই শুটারকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দিবাগত রাতে র‌্যাব-৪ মিরপুরের রূপনগর থানার ইস্টার্ন হাউজিং এলাকা এবং উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি রিভলবার ও তিন রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলো—মো. রাশেদ ওরফে লোপন (৩৫) এবং মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে কাল্লু (৪০)।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে মিরপুরের পাইকপাড়ায় র‌্যাব-৪ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহাবুদ্দিন কবির এ তথ্য জানান।

র‌্যাব জানায়, নিহত কিবরিয়া উঠতি বিএনপি নেতা ছিলেন এবং ভবিষ্যতে পল্লবী থানা বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হতে পারতেন। এলাকায় জুট ও হাউজিংসহ বিভিন্ন ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তদন্তে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডে ৬-৭ জন অংশ নেয়। তারা কিবরিয়াকে নজরদারি, গুলি এবং হত্যার পর পালাতে সহায়তার মতো বিভিন্ন ভূমিকায় ছিল। এ ঘটনায় ‘জনি’ নামে আরও একজনকে আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে।

এর আগে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মো. মনির হোসেন ওরফে সোহেল (পাতা সোহেল) এবং একাধিক মামলার আসামি সুজন ওরফে বুকপোড়া সুজনকেও গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, গ্রেফতারকৃতদের মোবাইল ফোন বিশ্লেষণে শীর্ষ সন্ত্রাসী মশিউর রহমান মশির সঙ্গে তাদের যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। জুট ও হাউজিং ব্যবসার নিয়ন্ত্রণে বাধা দেওয়ায় মশির নির্দেশেই কিবরিয়াকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক কোন্দল ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং এতে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে বলেও তারা স্বীকার করেছেন।

র‌্যাব জানায়, ঘটনার পর থেকেই শুটাররা পলাতক ছিলেন। পরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, তারা দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এরপর তাদের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়।

উল্লেখ্য, নিহত গোলাম কিবরিয়া পল্লবী থানা যুবদলের সদস্য সচিব ছিলেন। পাশাপাশি তিনি চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
গত বছরের ১৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় মিরপুর-১২ নম্বরের বি ব্লকের একটি হার্ডওয়্যার দোকানে ঢুকে মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা কাছ থেকে গুলি চালিয়ে তাকে হত্যা করে। পালানোর সময় অটোরিকশা চালককে গুলি করে আহত করা হয়।

এ ঘটনায় কিবরিয়ার স্ত্রী সাবিহা আক্তার দীনা পল্লবী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় পাঁচ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ