বগুড়ার সান্তাহার জংশন স্টেশনের পার্শ্ববর্তী বাগবাড়ি এলাকায় ঢাকা-চিলাহাটি রুটের নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুতির ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। এতে দুর্ঘটনার জন্য লোকো মাস্টার, স্টেশন মাস্টার ও রেলপথ মেরামতের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাকে দায়ী করা হয়েছে। সম্প্রতি এ তদন্ত প্রতিবেদন ও সুপারিশ রেলওয়ের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে। এটি গৃহীত হলে নির্দেশ অনুসারে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকালে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ এ তথ্য দিয়েছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন দুর্ঘটনার মূল কারণ ছিল রেলওয়ের প্রতিষ্ঠিত বিধিমালার লঙ্ঘন। রেললাইনে কাজ চলাকালে স্টেশন মাস্টারের পক্ষ থেকে চালককে প্রয়োজনীয় ‘অর্ডার ওপিটি’ ফর্ম বা সতর্ক বার্তা দেওয়া হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী এই ফর্ম ইস্যু করা হলে ট্রেনচালক আগে থেকেই কাজের বিষয়ে যানতেন এবং ট্রেনের গতি ঘণ্টায় ১০ থেকে ২০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতেন। দ্বিতীয়ত, প্রকৌশল বিভাগের পক্ষ থেকে লাইনে কাজ করার সময় বিধি অনুযায়ী নির্দিষ্ট দূরত্বে লাল পতাকা প্রদর্শন করা হয়নি। এ ছাড়া ট্রেনের লোকো মাস্টারের বিরুদ্ধেও অসতর্কতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামনে রেলকর্মীরা কাজ করলেও এবং পর্যাপ্ত দূরত্বে পতাকা না থাকলেও চালক দূর থেকে বিষয়টি খেয়াল করে সতর্ক হতে পারতেন।
জানা গেছে, গত ১৮ মার্চ দুপুরে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নীলফামারীর চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি বগুড়ার সান্তাহার জংশন অতিক্রম করে বাগবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে পেছনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়। দুর্ঘটনায় কোনও প্রাণহানী না ঘটলেও বিভিন্ন বয়সের ৬৬ নারী-পুরুষ আহত হন। তাদের বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পার্শ্ববর্তী নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এই দুর্ঘটনার ফলে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে ঢাকা ও রাজশাহীর রেল যোগাযোগ প্রায় ২১ ঘণ্টা বিচ্ছিন্ন ছিল। এ সময় ছয়টি ট্রেনের যাত্রা বাতিল এবং সাতটি ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ঘটে। দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে বিপুল সংখ্যক যাত্রীকে। দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে কোনও সতর্কতা ছাড়াই ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন মেরামত কাজ চলছিল।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ ও অন্য কর্মকর্তারা জানান, দুর্ঘটনার পরপরই উচ্চ পর্যায়ের দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পাকশী বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী মইন উদ্দিন সরকারকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ ছাড়া বিভাগীয় প্রধান পর্যায়ের চার সদস্যের অপর কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন, সিওপিএস পশ্চিমাঞ্চলের আহসান উল্লাহ ভূঁইয়া। তদন্ত শেষে পাকশী বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী মইন উদ্দিন সরকারের নেতৃত্বাধীন কমিটি সুপারিশসহ গত কয়েকদিন আগে রেলওয়ের মহাপরিচালকের কাছে পাঠিয়েছেন। এ ছাড়া সিওপিএস পশ্চিমাঞ্চলের আহসান উল্লাহ ভূঁইয়ার কমিটি গত শনিবার মহাপরিচালকের কাছে সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন। দুটি তদন্ত প্রতিবেদনে তিন পর্যায়ের অবহেলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। রেলের অফিশিয়াল বিধি অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ আরও জানান, তদন্ত প্রতিবেদন গৃহীত হলে নির্দেশ অনুসারে ট্রেন দুর্ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।









