সাফ জয়ী অনূর্ধ্ব-২০ দলের এ এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা। ছাদখোলা বাসে করে বিমানবন্দর থেকে হাসিমুখে রাস্তায় সমর্থকদের অভিনন্দনে সাড়া দিয়ে শনিবার (৪ এপ্রিল) রাত পৌঁনে ১০টায় হাতিরঝিলের এম্ফিথিয়েটারে পৌঁছে বিরল এক সংবর্ধনা পেয়েছে।
কোচের সঙ্গে ট্রফি উঁচিয়ে ধরে অধিনায়ক মিঠু চৌধুরীসহ অন্যদের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক আরেক দফা খেলোয়াড়দের অভ্যর্থনা জানান। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল ও সহ-সভাপতি নাসের শাহরিয়ার জাহেদীসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
‘চ্যাম্পিয়ন্স’ লেখার পেছনে সাজানো মঞ্চের সামনের ডেস্কে রাখা হয় সোনালি রঙের ট্রফিটি। একটু পরই বেজে ওঠে জাতীয় সংগীত—আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি।
মঞ্চের স্ক্রিনে ফুটে ওঠে মালদ্বীপে বাংলাদেশের প্রতিটি স্মরণীয় মুহূর্ত—রোনানদের গোলের উদযাপন, শিরোপা জয়ের উল্লাস, মালে জাতীয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের দর্শকদের উচ্ছ্বাস।
এসময় ট্রফি সমর্থকদের উৎসর্গ করেন অধিনায়ক মিঠু, ‘এই ট্রফি আপনাদের জন্য। শুধু আপনাদের জন্য।’
কোচ মার্ক কক্স মঞ্চজুড়ে হাঁটতে হাঁটতে নিজের অনুভূতি জানান বাংলায়, ‘আমার হৃদয় বাঙালি। সবাইকে আসসালামু আলাইকুম। আমার হৃদয় বাঙালি, বাংলাদেশ। বাফুফে সভাপতি আপনাকে ধন্যবাদ, সুন্দর এই আয়োজনের জন্য। আমি আমার স্টাফদের ধন্যবাদ জানাতে চাই, এই লোকগুলো না থাকলে এই সাফল্য আসত না। প্রতিটি ছেলে তাদের সবটুকু দিয়ে বাংলাদেশের জন্য খেলেছে। ১৯৭১ সালের স্পিরিট… যেটা আপনাদের ইতিহাস…সেটা দেখিয়েছে। আমরা এই সাফল্য আবারও নিয়ে আসব।’
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী দুই ভাই রোনান ও ডেকলান সুলিভানও নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
এরপর খেলোয়াড়দের প্রশংসায় ভাসানো তাবিথ আউয়াল বলেছেন, ‘আমাদের চ্যাম্পিয়ন ভাইয়েরা ও চ্যাম্পিয়ন কোচিং স্টাফ সবাইকে সালাম। শুরুতেই বলতে চাই, আমাদের মাঠে ১১ জন খেলোয়াড়ের সঙ্গে ১২তম খেলোয়াড় ছিলেন আপনারা, দর্শকরা। প্রতিটি মুহূর্তে মালদ্বীপ থেকে আমাদের মনে হয়নি… আমরা দেশে নেই। থাইল্যান্ডে, অস্ট্রেলিয়ায়, মালদ্বীপে—সব জায়গাতেই আপনারা একটা বার্তা দিয়েছেন, বাংলাদেশ আর থামবে না। বাংলাদেশ আর পিছু নামবে না। ধন্যবাদ সব দর্শকদের।’
ছাদখোলা বাসে এসে অধিনায়ক বললেন, ‘এই ট্রফি শুধু আপনাদের জন্য’
স্বপ্নের কথা শোনাতে গিয়ে বাফুফে সভাপতি বলেন, ‘বার্তাটা খুব পরিষ্কার। এটা সবে শুরু। ফাইনাল জিতেছি, ট্রফিটা বাংলাদেশে এসেছে, কিন্তু আরও ট্রফি আসার যে সংস্কৃতি আমরা দেখতে চাই, তার যাত্রা শুরু হচ্ছে। অতীতে আমাদের নারী দল বাছাই পেরিয়ে দেখিয়েছে, আমরা এশিয়ান কাপে খেলব। আজকে আমরা যুব দলকে দেখছি… আমাদের ভবিষ্যৎ খুবই উজ্জ্বল।’
এরপর তিনি বলেন, ‘আমি বারবার বলে আসছি, আমাদের অনেক ঘাটতি আছে, কিন্তু ওরা যেভাবে খেলছে, যে পর্যায়ে খেলছে এবং দেশকে প্রতিদান দিচ্ছে, সে তুলনায় আমরা কিন্তু তাদের রিসোর্স দেওয়ার ধারে কাছেও নেই। আজও যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। যদি মন্ত্রণালয় এগিয়ে আসে, পৃষ্ঠপোষকরা এগিয়ে আসে, তাহলে আমরা সম্মিলিতভাবে খেলোয়াড়দের জন্য ভালো সুবিধা তৈরি করতে পারব। তখনই কেবল আমরা ফুটবলারদের কাছ থেকে আরও বেশি প্রত্যাশা করতে পারব।’
বক্তব্যের শেষ দিকে এসে তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘উই আর দ্য…’, সমবেত দর্শক-ফুটবলপ্রেমীরা সমস্বরে চিৎকার করে ওঠেন, ‘চ্যাম্পিয়ন।’
আনন্দের রোশনাইয়ের মাঝে রোনান-মিঠুদের কাছে রাতটি হয়ে রইলো দারুণ এক স্মৃতিময়।
উল্লেখ্য, সাফ চ্যাম্পিয়ন দলের ফুটবলারদের ১ লাখ টাকা করে ও কর্মকর্তাদের ৫০ হাজার টাকা বোনাসের ঘোষণা দিয়েছেন বাফুফে ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান নাসের শাহরিয়ার জাহেদী। এদিকে খেলোয়াড়দের ৫০ হাজার টাকা করে দেবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।










