শুক্রবার | ১০ এপ্রিল, ২০২৬ | ২৭ চৈত্র, ১৪৩২ | ২১ শাওয়াল, ১৪৪৭

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে উষ্ণতার হাওয়া

যোগাযোগ ডেস্ক:

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছিল। এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়। দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এরপর চলতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচনের পর বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর দুই পক্ষ থেকেই সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।

গতকাল (৭ এপ্রিল) পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান দিল্লি সফরে গেছেন। তার সফরসঙ্গী হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। এই সফরের প্রাক্কালে রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রনয় ভার্মা। শুধু তাই নয়, ভারতে দুই দিনের সফর শেষে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে একই বিমানে চেপে মরিশাসে যাবেন ড. খলিলুর রহমান।

ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও সাবেক রাষ্ট্রদূত মো. শফিউল্লাহ বলেন, ‘দুই দেশের সম্পর্কে যে বরফ গলতে শুরু করেছে, সেক্ষেত্রে ভারতই এগিয়ে এসেছে। তারা বাংলাদেশের বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে পেরেছে।’

শফিউল্লাহ বলেন, ‘দুই দেশের সম্পর্কে যে বরফ গলতে শুরু করেছে, সেক্ষেত্রে ভারতই এগিয়ে এসেছে। তারা বাংলাদেশের বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে পেরেছে। এই কারণে যখন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া অসুস্থ ছিলেন, তারা চিকিৎসার ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছিল। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর জানাজাতে মোদির শোকবার্তা নিয়ে এসেছিলেন তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এরপর তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। এরপর ভারতের পার্লামেন্টের বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনেই বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকপ্রস্তাব বা ‘অবিচুয়ারি রেফারেন্স’ গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভারতের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভা ও নিম্নকক্ষ লোকসভা, উভয়কক্ষেই এই শোকপ্রস্তাব আনা হয়। এগুলো কিন্তু ইতিবাচক সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়। ভারতের বর্তমান সরকার যে বিএনপি সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী, এই পদক্ষেপগুলোতে সেই বার্তাই দেয়।’

গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর যে বিধিনিষেধ বাংলাদেশ আরোপ করেছিল তা তুলে নিতে শুরু করেছে। যদিও এখনও কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। আলোচনার ভিত্তিতে এগুলোও বাংলাদেশ তুলে নেবে বলে মনে করেন শফিউল্লাহ। সূত্র: ডয়েচে ভেলে

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ