ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ বলেছেন, দুটি মূল শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরু হতে পারে না। শর্তগুলো হলো লেবাননে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন এবং জব্দকৃত ইরানি সম্পদ হস্তান্তর। খবর আল জাজিরার।
গালিবফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লেখেন, (যুদ্ধরত) পক্ষগুলোর মধ্যে পারস্পরিকভাবে সম্মত হওয়া দুটি পদক্ষেপ এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। এগুলো হলো আলোচনা শুরুর আগে লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া। আলোচনা শুরু হওয়ার আগে এই দুটি বিষয় অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে।
এদিকে, যুদ্ধের অবসান প্রত্যাশী বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের চোখ ইসলামাবাদের দিকে। মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে লাখ লাখ মানুষের জীবন ও বিশ্ব অর্থনীতির ভাগ্য নির্ভর করছে আগামীকাল শনিবার পাকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার ফলাফলের ওপর। খবর সিএনএনের।
যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো আলোচনায় অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধি দল পাকিস্তান সফরে যাচ্ছে। তাদের আগমন উপলক্ষে কঠোর নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে দেশটিতে দুই দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে রাজধানী ইসলামাবাদের রাস্তাঘাট জনশূন্য হয়ে পড়েছে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চলছে। এর মধ্য দিয়ে যুদ্ধরত পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনার পথ উন্মুক্ত হয়। তবে যুদ্ধবিরতি চলাকালে ইরানের মিত্র লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর ওপর ইসরায়েলের ব্যাপক প্রাণঘাতী বোমাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। তাই যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না, তা নিয়ে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। তবে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠেয় আলোচনায় ইসরায়েলের কোনো প্রতিনিধি থাকছে না বলে জানা গেছে।
হোয়াইট হাউসের তথ্যমতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা ইসলামাবাদের স্থানীয় সময় শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে শুরু হতে চলেছে। বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।
তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের প্রতিনিধি দলের নাম ঘোষণা করেনি। কিছু স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ দেশটির প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় শুরু হওয়া এ যুদ্ধে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ ইরানের বহু সরকারি ও সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে বিভ্রান্তি থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) আলোচনার প্রস্তুতি নিতে বেশ তৎপর ছিলেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স বলেছেন, ইরান যদি (আলোচনা থেকে) সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তা বোকামি হবে। তবে সেটা তাদের সিদ্ধান্ত।
মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সংবাদমাধ্যম এনবিসিকে বলেছেন, এই সপ্তাহান্তে ইসলামাবাদের আলোচনা থেকে একটি শান্তি চুক্তি হওয়ার ব্যাপারে তিনি ‘খুবই আশাবাদী’। তিনি সংবাদমাধ্যমটিকে আরও জানান, ব্যক্তিগত আলোচনায় ইরানের নেতারা শান্তির জন্য উন্মুক্ত বলে তার মনে হয়েছে।
ট্রাম্প এনবিসিকে বলেন, তারা অনেক বেশি যুক্তিবাদী। তাদের যেসব বিষয়ে রাজি হতে হবে, সেসব বিষয়েই তারা রাজি হচ্ছে। মনে রাখবেন, তারা পরাজিত। তাদের কোনো সামরিক শক্তি নেই।
ইরান অবশ্য যুদ্ধ নিয়ে স্পষ্টভাবে ভিন্ন বার্তা দিয়েছে। দেশটির একাধিক রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আক্রমণ প্রতিহত করে এবং ওয়াশিংটনকে আলোচনার টেবিলে বসিয়ে ইরান বিরাট বিজয় অর্জন করেছে।
আর আলোচনা যদি আদৌ শুরু হয়, তবুও পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় আলোচনায় দুই পক্ষের মধ্যকার ব্যবধান ঘোচানো যাবে কি না, তা বলা কঠিন। যুদ্ধবিরতি আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রমতে, যুদ্ধ শেষ করার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী ও স্থায়ী চুক্তি নিয়ে বেশ কয়েকবার নিবিড় আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যেই শনিবার (১১ এপ্রিল) প্রথম বৈঠকটি হওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র : আল জাজিরা









