রাজধানীর শাহবাগ থানার ভেতরে ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৭টার দিকে থানার ভেতরেই এই ঘটনা ঘটে।
এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির বেশ কয়েকজন সদস্যসহ ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মুসাদ্দিক ইবনে আলী মোহাম্মদ এবং সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়েরসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে।
শাহবাগ থানায় ‘রাজাকারের ঠিকানা, এ বাংলায় হবে না’; ‘শিবিরের জার্নালিজম, এই ক্যাম্পাসে হবে না’ ইত্যাদি স্লোগান দেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার মূল সূত্রপাত ২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনে শিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে কার্যনির্বাহী সদস্য পদপ্রার্থী এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মাহমুদের একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে।
ছাত্রদলের এক নেতা বলেন, “শিবির নেতা তারেক রহমান ও জাইমা রহমানকে নিয়ে যে পোস্ট দিয়েছে, তা বলার মতো না। ছাত্রদল সবসময় গঠনতান্ত্রিক সমালোচনার পক্ষে ছিল। আমরা উদারনীতি সবসময় চেয়েছি। আমরা গঠনমূলক সমালোচনার পক্ষে ছিলাম। কিন্তু শিবির নেতা যে কুরুচিমূলক পোস্ট দিয়েছে এটা ঠিক করে নাই।”
ছাত্রদল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, আবদুল্লাহ আল মাহমুদ তার ফেসবুক আইডিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে নিয়ে ‘কুরুচিপূর্ণ’ মন্তব্য করেছেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে আসেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
ছাত্রদল নেতাদের দাবি, তারা যখন থানায় অভিযোগ করতে আসেন, তখন তারা অভিযুক্ত মাহমুদকে সেখানে উপস্থিত দেখতে পান।
এর আগে সন্ধ্যায় অভিযুক্ত ঢাবি শিবির নেতা শাহবাগ থানায় উপস্থিত ছিলেন। ঢাবি শিবির নেতা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে জাইমা রহমানকে কটুক্তি করে একটি ফটোকার্ড ফেসবুকে শেয়ার দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে অভিযুক্ত ঢাবি শিবির নেতা বলছে, সেটি ভুয়া। সেজন্য তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে এসেছেন।
এক পর্যায়ে ডাকসু নেতা এবি জুবায়ের ও মোসাদ্দিকের নেতৃত্বে ছাত্রশিবিরের কর্মীরা ঘটনাস্থলে থানায় গেলে তাদের মারধর শিকার হয়। হামলার মুখে থানার ভেতরে আশ্রয় নেন ডাকসু নেতা মোসাদ্দেক ও জুবায়ের।
এদিকে ঢাবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি কালের কণ্ঠের ঢাবি প্রতিনিধি মানজুর হোছাঈন মাহি, সাধারণ সম্পাদক ও আগামীর সময়ের সাংবাদিক লিটন ইসলাম, দেশ রূপান্তরের এইচ এম খালিদ হাসান, ডেইলি অবজার্ভারের নাইমুর রহমান ইমন, ডেইলি স্টারের মাহাথীর মোহাম্মদ, বাংলাদেশ প্রতিদিনের মো. ছাব্বিরুল ইসলাম, নয়া দিগন্তের মো: হারুন ইসলাম, রাইজিংবিডি ডট কমের মো. সৌরভ ইসলাম, মানবজমিনের মো. আসাদুজ্জামান খান, ঢাকা ট্রিবিউনের মো. সামশুদৌজা নবাব, প্রাইম বাংলাদেশের ইফতেখার সোহান সিফাত, প্রতিদিনের বাংলাদেশের মাহরিব বিন মহসিনের ওপর হামলা করে ছাত্রদল।
উল্লেখ্য, ডাকসু নেতা মুসাদ্দিক ও এবি জুবায়েরকে চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে বলে জানা গেছে। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা অবস্থা গুরুতর নয় বলে জানিয়েছেন।









