শনিবার | ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ | ১২ বৈশাখ, ১৪৩৩ | ৭ জিলকদ, ১৪৪৭

গাজায় নতুন আতঙ্ক ইঁদুর

যোগাযোগ ডেস্ক:

গাজার বাস্তুচ্যুত বাসিন্দা সামাহ আল-দাবলা। ইসরাইলের নৃশংস হামলা থেকে বাঁচতে পরিবার নিয়ে অস্থায়ী তাঁবুতে দিন পার করছেন তিনি। কিন্তু যুদ্ধের বিভীষিকার মধ্যে তার কাছে নতুন আতঙ্ক ইঁদুর। রোগ-জীবাণু বহনকারী এসব ইঁদুর খাবারের খোঁজে তাঁবুতে উৎপাত চালাচ্ছে। কখনো কখনো দিচ্ছে কামড়। এতে করে যেমন নানা রোগের আশঙ্কা বাড়ছে তেমনি হচ্ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। বৃহস্পতিবার আল-জাজিরার এক রিপোর্টে প্রকাশিত তথ্যে অবরুদ্ধ গাজার নতুন সমস্যার চিত্র উঠে এসেছে।সামাহ’র তিন বছরের মায়াসীনকে আক্রমণ করেছিল একটি ইঁদুর। এরপর তার হাতে কামড় দিয়ে দেয়। রক্তে শিশুটির শরীর এবং বিছানা ভিজে গিয়েছিল। এরপর থেকেই ভয়ে-আতঙ্কে দিন কাটছে শিশুটির। সামাহ বলেন, ‘আমার শিশুরা এখনো ভয়ে কাঁপছে। আশপাশে ইঁদুরের ঘোরাঘুরির শব্দে তারা রাতে ঘুমাতে পর্যন্ত পারছে না।’ সামাহ আরও দাবি করেন, গাজাজুড়ে গণহত্যায় মারা যাওয়া লাশগুলোর কারণে ইঁদুরদের সংখ্যা আরও বাড়ছে।
তিনি উদ্বেগ নিয়ে বলেন, ‘ইঁদুররা লাশ দেখে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে। তাই তারা জীবিতদেরও এখন আর ভয় পায় না!’ ক্লান্ত কণ্ঠে তিনি যোগ করেন, ‘সন্ধ্যা হলেই আমার আতঙ্ক শুরু হয়। গতকাল রাতে তাঁবুতে ফেরার সময় দেখলাম পাহাড়ে সব ইঁদুর কিলবিল করছে… কোনো মানুষ কল্পনাও করতে পারবে না এমন দৃশ্য।’
ইসরাইলি হামলা ও উচ্ছেদ আদেশের কারণে গাজার লাখ লাখ মানুষ এখন তাঁবুতে বসবাস করছেন। অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি শুরু হলেও পুনর্গঠনের কোনো লক্ষণ নেই। এই চরম দুর্দশার মধ্যেই বিশুদ্ধ পানি, বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট এবং খাবার সংগ্রহের লড়াই চালিয়ে যেতে হচ্ছে গাজাবাসীর। উত্তর গাজার বাইত লাহিয়া থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়া সামাহ ইঁদুর মারার বিষ কেনার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু দাম এত বেশি যে তাদের সাধ্যের বাইরে।
সামাহ বলেন, ‘কমিউনিটি কিচেন থেকে খাবার এনে ঢেকে রাখি, কিন্তু কিছুক্ষণ পর এসে দেখি তাতে ইঁদুরের বিষ্ঠা পড়ে আছে। তখন বাধ্য হয়ে সব ফেলে দিতে হয়। ওরা আমাদের আটার বস্তাও নষ্ট করে ফেলে। এমনকি কাপড়, ব্যক্তিগত জিনিসপত্র এবং তাঁবুর ক্যানভাসও কুঁকড়ে নষ্ট করছে এই ইঁদুরগুলো।’
ইঁদুরের জ্বালায় ভুক্তভোগী আরেক বাসিন্দা বাসেল আল-দাহনুন। ডায়বেটিকসে আক্রান্ত বাসেলকেও ইঁদুর কামড় দিয়েছিল। তিনি বলেন, ‘ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষত সহজে শুকায় না। ইনফেকশন হয়েছে কি না দেখতে চিকিৎসকরা নমুনা নিয়েছেন’।
পুরো গাজাজুড়েই এমন আতঙ্কের কোনো সমাধান খুঁজে পাচ্ছে না সরকারি সংস্থারা। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিরক্ষামূলক ঔষধসেবার প্রধান ডক্টর আয়মান আবু রহমান পুরো ব্যাপারটিকে ‘স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি মনে করেন ইঁদুরের প্রসাব বা লালা থেকে আরও রোগশোকের জীবাণু ছড়াতে পারে। ইঁদুরদের থামানো না গেলে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ও মারাত্মক বিপর্যয় আসতে পারে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ