জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) পেশাদারত্ব, নিরপেক্ষতা ও জনমুখী প্রশাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, পদোন্নতি বা পছন্দের পোস্টিংয়ের জন্য পেশাদারত্বের সঙ্গে আপস করলে তা জনপ্রশাসনের দক্ষতা ও নিরপেক্ষতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। একটি সরকার যেমন চিরস্থায়ী নয়, জনপ্রশাসনের কোনো পদ কারও জন্য চিরস্থায়ী নয়।
রোববার (৩ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শুরু হওয়া জেলা প্রশাসক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, এই সম্মেলন ৬ মে পর্যন্ত চলবে এবং এটি বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।
নির্বাচন পরিচালনায় পেশাদারত্বের পরিচয় দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনপ্রশাসনের প্রতিটি পদই রাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই যে কোনো পদে দায়িত্ব পালনের মানসিকতা থাকতে হবে এবং দেশের যে কোনো স্থানে কাজ করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
তিনি বলেন, কোনো সরকার যেমন চিরস্থায়ী নয়, তেমনি প্রশাসনের কোনো পদও স্থায়ী নয়। রাষ্ট্রের প্রয়োজনে যে কোনো সময় যে কোনো পদে দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত থাকলে জনপ্রশাসনে পেশাদারত্ব আরও দৃঢ় হবে। তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছিল। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও ভঙ্গুর অবস্থা বিরাজ করছিল। এর পাশাপাশি বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতিও নতুন সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে একটি ন্যায়ভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ এরইমধ্যে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড ও স্পোর্টস কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ অন্যান্য ধর্মীয় ব্যক্তিদের জন্য সম্মানি ভাতা চালুর কথাও উল্লেখ করেন তিনি। দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনার লক্ষ্যের কথা জানান। কৃষিখাতের উন্নয়নে সেচব্যবস্থা জোরদারের লক্ষ্যে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক সম্প্রীতি বাড়বে। নির্বাচনি ইশতেহার ও জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রশাসনের ভূমিকা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকরাই সরকারের নীতি বাস্তবায়নের প্রধান সেতুবন্ধন। তাদের সততা, দক্ষতা ও দায়বদ্ধতার ওপর সরকারের সাফল্য নির্ভর করে।
তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উদ্যোক্তা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও স্বেচ্ছাসেবামূলক অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।
জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মতভেদ থাকতেই পারে, তবে দেশের স্বার্থে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।









