সোমবার | ৪ মে, ২০২৬ | ২১ বৈশাখ, ১৪৩৩ | ১৬ জিলকদ, ১৪৪৭

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন

প্রাথমিক ট্রেন্ডে বাংলাজুড়ে গেরুয়া ঝড়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

কয়েক মাসের অপেক্ষার শেষ আজ। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল আজ সোমবার (৪ মে) প্রকাশ হচ্ছে। গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় এই ভোট হয়। সেই ভোটের চূড়ান্ত ফল আজ জানা যাবে।
এখন বড় প্রশ্ন, তৃণমূল কংগ্রেস আবার ক্ষমতায় নাকি এবার পরিবর্তন হবে? সেই দিকেই তাকিয়ে আছে গোটা রাজ্য।
আজ সোমবার সকাল ৮টা থেকে রাজ্যের ২৯৩টি আসনের গণনা শুরু হয়েছে। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে রাজনৈতিক পারদ। আশা করা হচ্ছে, দুপুর ১২টার মধ্যেই বাংলার মসনদে কে বসছেন, সেই ছবিটা অনেকটা স্পষ্ট হয়ে যাবে।
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনায় বিজেপি এগিয়ে আছে ১৫০টি আসনে, তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে আছে ১২৫টি আসনে। কংগ্রেস দল এগিয়ে আছে চারটি আসনে, অন্যান্যরা এগিয়ে একটি আসনে। ভারতের নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ১০টা পর্যন্ত এই আপডেট পাওয়া গেছে।
কলকাতার ভবানীপুর আসনে এগিয়ে আছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ও ওই কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মমতা ব্যানার্জী।
এই পর্বে পোস্টাল ব্যালট গণনা চলছে। যেসব ভোটকর্মী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা পেশাগত কারণে নিজের কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন না, তাদের জন্যই এই পোস্টাল।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাথমিক প্রবণতায় বড় অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) দিকে। প্রাথমিক গণনা অনুযায়ী, বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা ছুঁয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে এগুলো এখনই চূড়ান্ত ফল নয়, গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান পরিবর্তন হতে পারে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় মোট ২৯৪টি আসন রয়েছে। সেখানে ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোট হয়েছে। তবে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ফলতা কেন্দ্রে নির্বাচনী অপরাধ ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় নির্বাচন কমিশন ওই কেন্দ্রের ভোট বাতিল করেছে। সেখানে আবার ২১ মে ভোট হবে এবং ২৪ মে গণনা হবে। তাই এখন ২৯৩ আসনে ভোট গণনা চলছে।
চলতি বছরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে যে দুই প্রার্থীর দিকে সকলের নজর রয়েছে তারা হলেন মমতা ব্যানার্জী ও শুভেন্দু অধিকারী। মমতা ব্যানার্জী চতুর্থবার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আশায় ভোটের ময়দানে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন এবং তার বিপরীতে রয়েছেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী।
কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে ভোটযুদ্ধে সামিল হয়েছে মিজ ব্যানার্জী। এই কেন্দ্রটি কার্যত তার ‘ঘরের মাঠ’। অন্যদিকে, নন্দীগ্রাম ছাড়াও ওই একই আসন থেকে প্রার্থী হিসাবে দাঁড়িয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি এক সময় মমতা ব্যানার্জীর ঘনিষ্ঠ ছিলেন পরে বিজেপি প্রার্থী হিসাবে ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে নন্দীগ্রাম থেকে মমতা ব্যানার্জীকে হারিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী।
এবারের ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন নানা দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। কিছু জায়গায় অশান্তি ও স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা থাকলেও, বড় একটি ইতিবাচক দিক হলো, এবার ভোট প্রক্রিয়ায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা হয়নি। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ভোটদানের হার ৯২ শতাংশের বেশি হয়েছে, যা এবার একটি বড় রেকর্ড।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিনরাজ্য থেকে ফিরে আসা শ্রমিকদের ভোট দেওয়াও ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে এবার বিরোধীরা প্রতিষ্ঠানবিরোধী আবহকে কাজে লাগিয়েছে। বিশেষ করে আরজি কর কাণ্ড এবং কসবা ল’ কলেজের মতো নারী নির্যাতনের ঘটনাগুলো শাসক দলের ওপর চাপ তৈরি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শহরের শিক্ষিত মধ্যবিত্তের একটি অংশ এবার তৃণমূলের বিরুদ্ধে গিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টির দিকে ঝুঁকতে পারে। অন্যদিকে, তৃণমূলের শক্তি হিসেবে রয়েছে তাদের শক্ত সংগঠন এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প। গ্রামীণ এলাকায় ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের জনপ্রিয়তা এবং সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকের সমর্থন দলটির বড় ভরসা। এক্সিট পোল কিছুটা বিজেপির দিকে ইঙ্গিত দিলেও, তৃণমূল শিবির দাবি করছে, জনগণের আস্থা ও উন্নয়নের ভিত্তিতে তারা আবারও ক্ষমতা ধরে রাখবে।
এখন মূল প্রশ্ন—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি হ্যাটট্রিক ধরে রাখতে পারবেন, নাকি বাংলায় আসবে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ?

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ