টানা ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর আরো ৩০ দিন গড়ালেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শান্তি আলোচনার পথ এখনো সুদূরপ্রসারী। কূটনৈতিক আলোচনা চলমান থাকলেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের অবস্থানের মধ্যে বড় ধরনের দূরত্ব রয়েই গেছে। ফলে যুদ্ধবিরতি স্থায়ী শান্তিচুক্তিতে রূপ নেবে কিনা, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে এর কারণ হিসেবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি, আগের অবস্থায় ফিরতে না চেয়ে বরং ‘আরো কিছু’ আদায় করে নিতে চায় তেহরান। শনিবার কাতারভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা তুলে ধরেন দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুহানাদ সেলুম।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে সেলুম বলেন, ওয়াশিংটন প্রথমে কূটনৈতিক পথে এগোলেও পরে যুদ্ধে জড়ায় এবং এখন আবার আলোচনায় ফিরে এসেছে। তবে তেহরান আগের অবস্থায় ফিরে যেতে চায় না; বরং যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ‘আরো কিছু’ আদায় করে নিতে চায়।
যুক্তরাষ্ট্রের সাফল্য নিয়ে আলজাজিরাকে সেলুম বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে সামরিক সাফল্যকে কূটনৈতিক সাফল্যে রূপ দিতে চাইছে। তবে ইরান সেই প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে।
সেলুমের মতে, যুদ্ধের সূচনা যুক্তরাষ্ট্র করলেও ওয়াশিংটনের হাতে এখনো প্রতিরোধ ক্ষমতা, সামরিক সক্ষমতা এবং কূটনৈতিক প্রভাব—এই তিনটির মধ্যে ভারসাম্য রয়েছে। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ ছাড়া ইরানের হাতে খুব বেশি কৌশলগত বিকল্প নেই।
ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের তুলনায় বর্তমানে ইরান অনেক দুর্বল অবস্থানে রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ থেকে টিকে থাকা আর যুদ্ধে সফল হওয়া এক বিষয় নয়।
তবে তেহরান এখনো কূটনৈতিক সমাধানকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। কিন্তু কোনো অতিরিক্ত সুবিধা বা নিশ্চয়তা না পেলে ইরান আগের পরিস্থিতিতে ফিরে যেতে রাজি হবে না।’ : কালের কষ্ঠ










