বিশ্বরাজনীতির দুই প্রধান মেরু—যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর চীনের রাজধানী বেইজিয়ে বৈঠকে বসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তবে এবারের সফরের প্রেক্ষাপট অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে ভিন্ন। একদিকে মার্কিন প্রশাসন যখন ইরান যুদ্ধের চোরাবালিতে আটকা পড়ে আছে, অন্যদিকে চীন সেই সুযোগে নিজেদের বিশ্বশান্তির মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরছে। সিএনএন-এর এক বিশেষ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই সম্মেলনটি ট্রাম্পের জন্য যতটা না কূটনৈতিক, তারচেয়ে বেশি টিকে থাকার লড়াই। ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের জনসমর্থন যেমন নিম্নমুখী, তেমনি আন্তর্জাতিকভাবেও তিনি চাপের মুখে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের এই জট খুলতে ট্রাম্প এখন শি জিনপিংয়ের সাহায্য চাইতে পারেন।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক মাস আগে যখন এই সম্মেলনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তখন পরিস্থিতি এমন ছিল না। বর্তমানে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকা এবং বিশ্ববাজারে তেলের দামের অস্থিরতা ট্রাম্পকে কোণঠাসা করে ফেলেছে। চীন এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বড় কোনো সুবিধা আদায় করে নিতে চায়। বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিবর্তন এবং চীনের ওপর থেকে প্রযুক্তিগত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়টি বেইজিংয়ের প্রধান লক্ষ্য।
আলোচনার টেবিলে যা থাকছে
১. ইরান সংকট: ট্রাম্প চাইছেন চীন তাদের প্রভাব খাটিয়ে ইরানকে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে রাজি করাক।
২. বাণিজ্য ও প্রযুক্তি: এনভিডিয়া ও এলন মাস্কের মতো ব্যবসায়ীদের সাথে নিয়ে ট্রাম্প বেইজিংয়ে গিয়েছেন যাতে চীনের বিশাল বাজার পুনরায় মার্কিন ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত হয়।
৩. তাইওয়ান ও সামরিক সহায়তা: চীন চায় তাইওয়ানে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি বন্ধ হোক, যা এই সম্মেলনের অন্যতম ‘রেড লাইন’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শি জিনপিং এখন চালকের আসনে। ইরান যুদ্ধ ট্রাম্পকে যতটা দুর্বল করেছে, শি-কে ততটাই শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছে। এখন প্রশ্ন হলো, ট্রাম্প কি পারবেন চীনের শর্ত মেনে নিয়ে ইরান যুদ্ধের একটি সম্মানজনক সমাপ্তি টানতে? নাকি বেইজিং সফর কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা হয়েই রয়ে যাবে?









