ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ‘পুশব্যাক’ ও ‘পুশইন’ ইস্যু নিয়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে বিএসএফের বাধায় খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন নারী ও শিশুসহ শতাধিক মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতের মানবাধিকার সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অব ডেমোক্রেটিক রাইটস’ (এপিডিআর) বা গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষা সমিতি। সংগঠনটির অভিযোগ, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বন্দুকের মুখে নারী ও শিশুদের জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে।
রোববার এক বিবৃতিতে এপিডিআর-এর সহ-সভাপতি রনজিৎ সুর জানান, পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলাগুলো, বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলো থেকে বিএসএফ কর্তৃক পুশব্যাকের উদ্বেগজনক খবর আসছে। বিএসএফ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে বহু মানুষকে, বিশেষত নারী ও শিশুদের সীমান্তের জিরো পয়েন্টে নিয়ে গিয়ে বন্দুকের ভয় দেখিয়ে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কিন্তু বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) পরিচয় নিশ্চিত না হয়ে তাদের ঢুকতে দিচ্ছে না। বিবৃতিতে বলা হয়, দুই দেশের বাহিনীর অনড় অবস্থানের কারণে সীমান্তের ‘নো ম্যানস ল্যান্ডে’ দিনের পর দিন আটকে আছেন বহু মানুষ। এদের মধ্যে গর্ভবতী নারী ও শিশুও রয়েছে। রোদ-বৃষ্টির মধ্যে খাবার ও পানিহীন অবস্থায় তারা এক ভয়াবহ ও অমানবিক পরিস্থিতির শিকার। বিএসএফ তাদের পুশব্যাক করে দায়িত্ব এড়াতে চাইছে, অন্যদিকে বিজিবি বলছে—এরা যে বাংলাদেশি তার কোনো প্রমাণ নেই, বরং তারা ভারতীয়। ফলে দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মাঝখানে পড়ে এক চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে এই মানুষগুলোর।
এপিডিআর এই পরিস্থিতিকে ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। সংগঠনটি মনে করে, ভারত সরকারের ‘ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট’ (শনাক্ত, বাতিল ও বহিষ্কার) নীতিটি সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক ও বেআইনি। এটি ভারতীয় সংবিধানের ১৪ ও ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের সরাসরি লঙ্ঘন। এই ‘থ্রি-ডি’ নীতিই বর্তমান সংকটের মূল উৎস।মানবাধিকার সংগঠনটি দাবি জানিয়েছে, ভারত সরকারকে অবিলম্বে এই অসাংবিধানিক পুশব্যাক নীতি বাতিল করতে হবে এবং নো ম্যানস ল্যান্ডে আটকে পড়া প্রতিটি মানুষকে দ্রুত ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিতে হবে। একই সঙ্গে এই মানবিক বিপর্যয় রোধে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের (ইউএনএইচআরসি) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে সংগঠনটি।










