বুধবার | ২৪ জুন, ২০২৬ | ১০ আষাঢ়, ১৪৩৩ | ৮ মহর্‌রম, ১৪৪৮

তৃণমূল থেকে মমতাকেই মুছে দিলেন ববি-অরূপ-ঋতব্রতেরা!

কলকাতা প্রতিনিধি :

লোকসভার ২০ জন সাংসদ তৃণমূল থেকে বেরিয়ে ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া (আইএনসিপি)-তে মিশে গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে বেরিয়ে গিয়েছে বিধানসভার পরিষদীয় দলও। ছিল পড়ে সংগঠন। সোমবার রাজ্য বাজেটের অব্যবহিত পরেই নিউ টাউনের একটি বিলাসবহুল হোটেলে তৃণমূলের সেই সংগঠনেরও দখল নিয়ে নিল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে থাকা বিরোধী শিবির। ওই হোটেলে সর্বভারতীয় তৃণমূলের বিশেষ অধিবেশন ডেকে তৃণমূলের নতুন জাতীয় কর্মসমিতি গঠন করা হয়েছে। সেই ‘তৃণমূলের’ চেয়ারম্যান করা হয়েছে মধ্য হাওড়া বিধানসভার বিধায়ক অরূপ রায়কে।শুধু চেয়ারম্যান পদে বদল নয়, গোটা তৃণমূলের সাংগঠনিক রদবদলই ঘটনো হয়েছে। সেই নতুন ‘তৃণমূলের’ কমিটির সাধারণ সম্পাদক, সহ-সভাপতি, কোষাধ্যক্ষও বেছে নেওয়া হয়েছে সোমবারের বৈঠকে। সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন ঋতব্রত। এ ছাড়াও ওই পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা, সাবিনা ইয়াসমিনকে। সহ-সভাপতি করা হয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে। তিনি সহ-সভাপতি পদে বসানো হয়েছে তৃণমূলের আরও দুই বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম এবং রথীন ঘোষকে। কোষাধ্যক্ষ করা হয়েছে আখরুজ্জামানকে।
এই ‘তৃণমূলের’ ভবিষ্যৎ কী? আইন কী বলছে?
এই ‘তৃণমূলের’ ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা মুনির নানা মত রয়েছে। নিউ টাউনের হোটেলে যখন ঋতব্রতেরা বৈঠক করছেন, তখন কালীঘাটে নিজের বাড়িতে প্রতি দিনের মতো সোমবারও বৈঠক করছিলেন মমতা। সেই বৈঠকে হাজির ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, দোলা সেনরা। মমতার বাড়ি থেকে বেরিয়ে বেলেঘাটার বিধায়ক তথা মমতাপন্থী কুণাল বলেন, ‘‘তৃণমূল আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমার্থক। আমাদের দলের যা কাঠামো, তাতে এগুলি করার এক্তিয়ার ওঁদের (বিদ্রোহী) নেই।’’ বৈঠকের পর সাংবাদিক বৈঠকে ঋতব্রত পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, ‘‘কুণাল ঘোষ কি নির্বাচন কমিশন?’’ তার পরেই উলুবেড়িয়া উত্তরের বিধায়ক বলেন, ‘‘আমরা যা করেছি আইন মেনে করেছি। নিশ্ছিদ্র ভাবে করেছি।’’
এ প্রসঙ্গে তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘‘পরিষদীয় দল আর পার্টি সংগঠন এক বিষয় নয়। এটা নিয়ে যা বলার আদালত বলবে। ঋতব্রতদের এত দিন বিশ্বাসঘাতক বলছিলাম। আজ বলছি ফোর টোয়েন্টি।’’ শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণের আরও সংযোজন, ‘‘সিপিএমের সংস্কৃতিই ছিল খুন, ধর্ষণ, রাহাজানি। ও (ঋতব্রত) সেই সিপিএমের প্রোডাক্ট। ফলে এর থেকে বেশি আর কী হবে।’’

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ