সিলেটে নিজ বাসায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস সাত্তার, তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহপরিচালিকা তাহমিনা হত্যাকাণ্ডের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আটক বাবুল মিয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে নগরের রায়নগর মিতালী এলাকার একটি খালি জায়গা ও ঝোপঝাড়ে তল্লাশি চালিয়ে ছোরাটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার ছোরাটিতে রক্তের দাগের মতো চিহ্ন পাওয়া গেছে ও এটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে নিহত আব্দুস সাত্তারের ২ মেয়ে ও মেয়ের জামাই দেশে এসে মরদেহ ময়নাতদন্তের পর গ্রহণ করেছেন। কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আসামি বাবুল মিয়াকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডের পেছনে গৃহপরিচারিকা তাহমিনার সঙ্গে বাবুল মিয়ার সম্পর্কের বিষয়টি যেমন খতিয়ে দেখা হচ্ছে, তেমনি ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত বিষয় ও জমিজমা-সংক্রান্ত কোনো বিরোধ ছিল কি না, সেটিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ ও এর পেছনের প্রেক্ষাপট অনেকটাই স্পষ্ট হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। পুলিশ জানায়, গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পূর্বপরিচিত হওয়ায় বুধবার বাবুল মিয়া ওই বাড়িতে যান। দরজায় নক করলে গৃহকর্মী তাহমিনা দরজা খুলে তাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেন। পরে একটি কক্ষে গিয়ে তাহমিনার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করতে চান। কিন্তু তাহমিনা সেই সম্পর্কে অমত প্রকাশ করলে তার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বাবুল মিয়া ছুরি দিয়ে তাহমিনাকে আঘাত করেন। এ সময় সুরাইয়া এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে আব্দুস সাত্তার এগিয়ে এলে তার সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় এবং একপর্যায়ে তাকেও ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। ঘটনাস্থলে তিনজনকে হত্যার পর বাবুল মিয়া বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যান। পরে তিনি রায়নগর এলাকায় নিজের বাড়িতে ফিরে আসেন। পুলিশের গঠিত বিশেষ টিমের সদস্যরা সেখানে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেন এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।










