সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আজ। বেগম খালেদা জিয়া ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন।
জীবদ্দশায় তাঁর জন্মদিন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হতো আলাদা উৎসবের আমেজ। দলীয় নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা, আলোচনা, দোয়াসহ নানা কর্মসূচিতে সরব থাকত বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে তৃণমূল পর্যন্ত। এবার সেই দিনটির বাস্তবতা ভিন্ন। কারণ বেগম খালেদা জিয়া আর আমাদের মাঝে নেই, আছে তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার।
বর্তমানে বিএনপির নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান, যিনি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জনগণের নিরঙ্কুশ ভোটে বিজয়ী হয়ে সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী গণতন্ত্রের মাতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে আজ শনিবার বিকেল ৩টায় ঢাকা-১৭ সংসদীয় আসনের মহাখালী কড়াইল এলাকায় টিঅ্যান্ডটি মাঠে দোয়া, মোনাজাত ও দরিদ্র অসহায় মানুষের মাঝে অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রিয় দেশনেত্রীর ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে আজ সারা দেশে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে বিএনপি।
গতকাল শুক্রবার দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৫ আগস্ট ২০২৬, শনিবার ‘গণতন্ত্রের মা’ সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন। এ উপলক্ষে ঢাকাসহ দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয় অথবা মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
ঢাকায় নয়াপল্টনের বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আজ সকাল ১১টায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র নেতারা উপস্থিত থাকবেন। ঢাকাসহ দেশব্যাপী বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওই মিলাদ ও দোয়া মাহফিলগুলোতে অংশগ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়।
গৃহবধূ থেকে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে আসা, এরপর তিন দফায় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন—তাঁর রাজনৈতিক জীবন ছিল উত্থান-পতন, আন্দোলন-সংগ্রামে পরিপূর্ণ। স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের গড়া মা, মাটি ও মানুষের রাজনৈতিক দল হিসেবে খ্যাত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে সুদৃঢ় সাংগঠনিক কাঠামো ও জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে। ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে নানা রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও সংকটের মুখে বেগম খালেদা জিয়ার দৃঢ় নেতৃত্বে ফিনিক্স পাখির মতো ঘুরে দাঁড়িয়ে দলটির গ্রহণযোগ্যতা, জনপ্রিয়তা ও বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিকতা বারবার প্রমাণিত হয়েছে।
বিএনপির নেতাদের পরামর্শ ও অনুরোধে বেগম খালেদা জিয়া ১৯৮২ সালে বিএনপিতে সাধারণ সদস্য হিসেবে যোগ দেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি ১৯৮৩ সালে ভাইস চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালের আগস্টে চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণের পর দ্রুতই তিনি পরিণত হন দেশের রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী নেতায়। ১৯৮২ সালে এরশাদ সরকারের ক্ষমতা দখলের পর সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে বিএনপির নেতৃত্ব দেন বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর নেতৃত্বে ১৯৯০ সালে স্বৈরশাসক এরশাদ সরকারের পতন ঘটে।
এরপর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন বেগম খালেদা জিয়া। বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের সেই সময়টি তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনেও তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করে। ২০০১ থেকে ২০০৬—এই মেয়াদে দ্বিতীয়বারের মতো পূর্ণ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৯৬ সালে স্বল্প সময়ের জন্যও সরকার পরিচালনা করেছিলেন।










