হুথিদের ক্রমবর্ধমান হামলা মোকাবিলা করতে মার্কিন সেন্টকমের মধ্যস্থতায় ইসরাইলের সঙ্গে গোপন বৈঠক ও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে সৌদি আরব। আঞ্চলিক কূটনীতিকদের বরাত দিয়ে জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, রিয়াদকে গোয়েন্দা সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমেই মূলত এই যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের তেল পাইপলাইন ও পাম্পিং স্টেশনে হুথিদের ড্রোন হামলার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইয়েমেন সীমান্তসংলগ্ন একটি মসজিদের ভেতরে থাকা সৌদি বেসামরিক নাগরিকদের ওপরও হামলা চালিয়েছে হুথিরা।
একইসঙ্গে লোহিত সাগরের কৌশলগত কয়েকটি দ্বীপ দখল করে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে সৌদি জাহাজের যাতায়াত বাধাগ্রস্ত করছে তারা, যা সৌদি আরবের জন্য বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সংকট তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইলের কাছ থেকে গোয়েন্দা সহায়তা চাইছে সৌদি আরব।
ইসরাইল ও সৌদি আরবের মধ্যে এই গোপন আলোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো হুথিদের সামরিক তৎপরতা ও অবস্থান সম্পর্কে রিয়াদকে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে সহায়তা করা। এর আগে হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানি বাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ ও সামুদ্রিক নিরাপত্তায় ইসরাইলি সামরিক বাহিনী তাদের উন্নত গোয়েন্দা সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে।
তবে হুথিদের দমনে যুক্তরাজ্যের কাছেও সামরিক সাহায্য চেয়েছে রিয়াদ, যার অংশ হিসেবে ব্রিটিশ সামরিক উপদেষ্টারা দেশটিতে সহায়তার জন্য কাজ করতে পারেন বলে জানা গেছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবকে একটি বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তোলার অনুমতি দেওয়ায় ইসরাইলি নিরাপত্তা মহলে কিছুটা উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
এই বিষয়টি ট্রাম্পের সামনে উত্থাপন করা হলে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে পারমাণবিক কর্মসূচির অগ্রগতির বিষয়টি ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ওপর নির্ভর করছে। অন্যদিকে ফিলিস্তিন সংকটের স্থায়ী সমাধানের পরই কেবল ইসরাইলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় যেতে চায় সৌদি কর্তৃপক্ষ।
তবে মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা যৌথ হুমকির মুখে দুই দেশের অভিন্ন নিরাপত্তা স্বার্থের কারণে শিগগিরই একটি নতুন রূপরেখা বা কূটনৈতিক চুক্তির ব্যাপারে আশাবাদী সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মহল।
সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট।









