ঢামেকের মর্গে প্রেমিকের মরদেহ দেখার কয়েক ঘণ্টা পর নার্সের মৃত্যু

যোগাযোগ ডেস্ক :

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে প্রেমিকের মরদেহ দেখতে গিয়েছিলেন নার্স তন্ময়ী মণ্ডল। সেখানে প্রেমিক আকাশ মিত্রের মরদেহ দেখে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি। এর কয়েক ঘণ্টা পর ঢামেক হাসপাতালের পুরোনো ভবনের নিচতলার একটি টয়লেট থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের ধারণা, তন্ময়ী আত্মহত্যা করেছেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণের জন্য ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।
‎আকাশের মৃত্যু ঘিরে নানা সন্দেহ

‎এর আগে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম জানান, আর্থিক সংকট ও ঋণে জর্জরিত হয়ে আকাশ মিত্র মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। মৃত্যুর আগে একটি চিঠি লিখেছিলেন আকাশ। সেখানে লেখা ছিল—‘পৃথিবী ছেড়ে যেতে ইচ্ছে করে না, কিন্তু টাকা নেই।’ চিঠিতে তন্ময়ী তার কাছে টাকা পাবেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে টাকার পরিমাণ সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত নন।

‎এসআই রফিকুল ইসলাম আরও জানান, আকাশের মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নন বলেও চিঠিতে উল্লেখ ছিল।

‎অন্যদিকে শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহফুজা আক্তার জানান, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, প্রেমঘটিত কারণে তন্ময়ী আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান।

‎দুই লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ‎
‎তন্ময়ীর বোন তন্দ্রা মণ্ডল ঢামেক মর্গে এসে মরদেহ শনাক্ত করেন। তিনি জানান, তন্ময়ী বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার মৃত বিভূত মণ্ডলের মেয়ে। তিনি বারডেম হাসপাতালের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নার্স ছিলেন।
তন্দ্রা মণ্ডল বলেন, কেরানীগঞ্জের আকাশ নামের এক ছেলের সঙ্গে তন্ময়ীর সম্পর্ক ছিল। তার দাবি, আকাশ তন্ময়ীর সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। বিভিন্ন অজুহাতে তার কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নিয়েছিলেন। ওই টাকা তন্ময়ী আবার কয়েকজনের কাছ থেকে সংগ্রহ করে আকাশকে দিয়েছিলেন।‎
‎তন্দ্রা আরও বলেন, রোববার বিকেলে কেরানীগঞ্জের বাসায় আকাশের মৃত্যু হয়। পরে তার মরদেহ ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে তন্ময়ী ঢামেক হাসপাতালে যান। সেখানে কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করেন। পরে হাসপাতালের টয়লেটে তার মরদেহ পাওয়া যায়।
‎যেভাবে মরদেহ উদ্ধার করা হয়‎
‎সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে ঢামেক হাসপাতালের পুরোনো ভবনের ১১০ ও ১১১ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝামাঝি টয়লেটের ৪ নম্বর কক্ষ থেকে তন্ময়ী মণ্ডলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
‎হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাকর্মী মাহমুদ শেখ জানান, সকাল ১০টার দিকে তিনি নারীদের টয়লেট পরিষ্কার করতে যান। নিয়ম অনুযায়ী, ভেতরের কক্ষগুলোর দরজায় ধাক্কা দিয়ে লোকজনকে বের হওয়ার অনুরোধ করেন তিনি। ৪ নম্বর কক্ষের দরজায় বেশ কয়েক বার ধাক্কা দিয়ে সাড়া না পাওয়ায় তার সন্দেহ হয়।
‎পরে তিনি রাসেল ও কামাল নামের আরও দুই পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে নিয়ে বিষয়টি দেখতে যান। তাদের ভাষ্য, দরজাটি ভেতর থেকে আটকানো ছিল। একপর্যায়ে দরজা খুলে তারা তন্ময়ীকে রক্তাক্ত ও ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এরপর তারা আনসার সদস্য ও হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শাহবাগ থানায় খবর দেয়।
‎ঘটনার সূত্রপাত রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেলে, কেরানীগঞ্জে। পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তন্ময়ী মণ্ডলের সঙ্গে কেরানীগঞ্জের আকাশ মিত্রের সম্পর্ক ছিল। ওইদিন বিকেলে কেরানীগঞ্জের বাসা থেকে আকাশের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে আনা হয়। আকাশের ময়নাতদন্তের সময় তন্ময়ী মর্গে উপস্থিত ছিলেন।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, প্রেমিকের মরদেহ দেখার পর তন্ময়ী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এরপর হাসপাতালের ভেতরে কোনো এক সময় তিনি নিজেকে আহত করেন। পরে পুরোনো ভবনের নিচতলার একটি টয়লেটে যান। সেখান থেকেই পরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
‎নিহত তন্ময়ী মণ্ডল ও তার প্রেমিক আকাশ মিত্রের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম।
পরিবারের সদস্যদের বরাতে ‎তিনি জানান, আকাশ মিত্রের মৃত্যুর পর তার ময়নাতদন্ত ঢামেক মর্গে সম্পন্ন হয়। ওই সময় তন্ময়ী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। প্রেমিকের মরদেহ দেখার পর তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
‎এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, তন্ময়ী মণ্ডলের পরিবার এবং তার প্রেমিক আকাশ মিত্রের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিকভাবে এমন চিত্রই পাওয়া গেছে। তবে ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পরই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যাবে। – আশিংক যুগান্তর থেকে নেওয়া

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ