গাজীপুরে ভাড়া করা লোক তৌফিকের ওপর হামলা করেছে: বন্ধু

যোগাযোগ ডেস্ক:

গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনের সময় দুপক্ষের সংঘর্ষের ভেতর পড়ে গার্মেন্টসকর্মী মো. তৌফিক হোসেন কীভাবে নিহত হয়েছেন, সেটি নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। প্রথমে দাবি করা হচ্ছে, তিনি বিক্ষোভকারীদের ভিডিও ধারণ করায় শ্রমিকদের হাতে মারধরের শিকার হন। কিন্তু ওই সময় ভুক্তভোগীর সঙ্গে থাকা তার এক বন্ধু কালবেলা অনলাইনের সঙ্গে কথা বলার সময় দাবি করেছেন, ‘একটি গার্মেন্টসের ভাড়া করা লোকের মারধরের কারণে তৌফিক মারা গেছেন।’

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার উত্তরার শিনশিন জাপান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তৌফিকের মৃত্যু হয়। আগের দিন সোমবার আন্দোলন চলাকালে হামলার ঘটনা মোবাইল ফোনে ধারণ করার চেষ্টা করেন তৌফিক। এ সময় হামলাকারীরা তার ওপর চড়াও হয়ে বেধড়ক মারধর করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে আন্দোলনরত শ্রমিকরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

গার্মেন্টের ভাড়া করা লোকের মারধরে তৌফিকের মৃত্যু হয়েছে দাবি করা বন্ধুর নাম মো. সাব্বির হোসেন। তিনি নিহতের সহকর্মীও। বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে কালবেলা অনলাইনকে তিনি বলেন, ‘তৌফিকের কাছে স্মার্টফোনই ছিল না। তার সঙ্গে একটি বাটন ফোন ছিল। ভিডিও করবে কীভাবে?’

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সাব্বির বলেন, ‘আমরা তখন লাঞ্চ করতে বাসায় আসি। খাওয়া-দাওয়া করে অফিসের দিকে যাওয়ার সময় একটি গার্মেন্টসের সামনে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখি দুপক্ষ হামলা করতেছে। এখানে ওই গার্মেন্টসের মালিক কিছু লোক রেখেছিল যারা বিক্ষোভকারীদের দৌড়াচ্ছিল। তো আমরা যাওয়ার সময় বিক্ষোভকারী ও ওই গার্মেন্টসের ভাড়া করা লোকেরা সামনাসামনি হামলা করলে আমরা দুইজন মাঝে পড়ে যাই।’

সাব্বির যে গার্মেন্টসের নাম বলেছেন, তাদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করছে কালবেলা। ভুল উচ্চারণের কারণে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত গার্মেন্টসটির সঠিক নাম জানা সম্ভব হয়নি।

সাব্বির বলেন, ‘গার্মেন্টসের ভাড়া করা লোকজন বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া দিলে তারা দৌড়ে অন্যদিকে চলে যায়। আমিও দৌড়ে রাস্তার অন্যপাশে চলে যাই। তখন পিছন দিকে তাকিয়ে দেখি তৌফিক নিচে পড়ে আছে। তাকে মারধর করেছে ভাড়া করা লোকেরা।’

তৌফিকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে গতকাল থেকে এখন পর্যন্ত কালবেলা একাধিক মানুষের সঙ্গে কথা বলেছে। গাজীপুরের কয়েক স্থানীয় বাসিন্দা বলেছেন, আন্দোলনের সময় গার্মেন্টস রক্ষা করতে অনেক মালিক নিজেদের লোক এনেছিল। তারা গার্মেন্টস পাহারা দিচ্ছিল। তৌফিক তাদের মারধরের শিকার হয়ে মারা যেতে পারেন বলে ধারণা।

নিহত তৌফিক শেখ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামের তবি খাঁর ছেলে। তিনি ছয়ঘরিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০২৩ সালের এসএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও তার পরিচয় নিশ্চিত করেছে। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বাবার মৃত্যুর পর পড়ালেখা ছেড়ে জীবিকার তাগিদে গাজীপুরে আসেন তৌফিক। পরে এক বন্ধুর মাধ্যমে লায়লা গার্মেন্টসে চাকরি নেন। তিনি গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। গত কয়েক দিন ধরে গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন চলছিল। ওই আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন তৌফিক। -সুত্র : কালবেলা

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ