বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আজ বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত আজ বুধবার এবং বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আজ বুধবার সরকারের নির্বাহী আদেশে একদিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
গতকাল মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সচিব শেখ আবদুর রশিদ স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনের আপসহীন নেত্রীর মৃত্যুতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গভীরভাবে শোকাহত। সরকার এই মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে, তার মৃত্যুতে আজ বুধবার থেকে শুক্রবার ২ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালন করা হবে। এতে বলা হয়, রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালনের কর্মসূচি হিসাবে এ তিনদিন বাংলাদেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাগফেরাতের জন্য আগামী শুক্রবার, ২ জানুয়ারি ২০২৬ বাংলাদেশের সব মসজিদে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও তার আত্মার শান্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে। এর আগে দুপুরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত (৩১ ডিসেম্বর এবং ১ ও ২ জানুয়ারি) তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেন। এছাড়া বুধবার সারাদেশে সাধারণ ছুটি থাকবে বলেও ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অ্যালোকেশন অব বিজনেস অ্যামাং দ্য ডিফারেন্ট মিনিস্ট্রিস অ্যান্ড ডিভিশনস-এর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অংশের ৩৭ নম্বর ক্রমিকের অনুবলে সরকার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আজ বুধবার নির্বাহী আদেশে একদিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করলো। ছুটিকালীন সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। এতে আরও বলা হয়, জরুরি পরিষেবা যেমন- বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরের কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, ডাক সেবা এবং এ সংশ্লিষ্ট সেবা কাজে নিয়োজিত যানবাহন ও কর্মীরা এই ছুটির আওতার বাইরে থাকবে। হাসপাতাল ও জরুরি সেবা এবং এ সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা এই ছুটির আওতার বাইরে থাকবে। একই সঙ্গে চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও কর্মীরা এবং ওষুধসহ চিকিৎসা সরঞ্জামাদি বহনকারী যানবাহন ও কর্মীরা এ ছুটির আওতার বাইরে থাকবে। এছাড়া জরুরি কাজে সম্পৃক্ত অফিসগুলো এই ছুটির আওতার বাইরে থাকবে, যোগ করা হয় প্রজ্ঞাপনে। ব্যাংক কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আদালতের কার্যক্রমের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে। তবে আজ ৩১ ডিসেম্বর ব্যাংক হলিডে থাকায় এদিন ব্যাংক বন্ধ থাকবে। এভারকেয়ার হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ মঙ্গলবার সকালে মারা যান বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। গত ২৩ নভেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল বেগম খালেদা জিয়াকে। এরপর থেকে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার মৃত্যুর পর সকালে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ সাংবাদিকদের জানান, বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বুধবার সরকারি ছুটি থাকবে। সূত্র : ইনকিলাব










