শনিবার | ৪ এপ্রিল, ২০২৬ | ২১ চৈত্র, ১৪৩২ | ১৫ শাওয়াল, ১৪৪৭

সংগ্রামীর বিদায়ে কাঁদছে বাংলাদেশ

যোগাযোগ ডেস্ক:

আপসহীন সংগ্রামী নেতা বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদায়ে কাঁদছে সারা দেশ। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে দলের নেতাকর্মী  ও সমর্থকরা হাসপাতালের সামনে ভিড় জমান। সকাল ১০টার দিকে ওই এলাকা হাজারো মানুষে পূর্ণ হয়ে যায়।এ সময় সাধারণ নেতাকর্মী ও সমর্থকরা অনেকে প্রিয় নেত্রীর স্মৃতিচারণা করে আহাজারি করেন। এভারকেয়ারের সামনে বেদনাবিধুর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। গতকাল গুলশানে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী জড়ো হন। এ সময় তাঁদের অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন।এ ছাড়া গতকাল দেশের অন্যান্য স্থানেও নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ছিলেন শোকে মুহ্যমান। স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে আজ বুধবার খালেদা জিয়ার দাফন সম্পন্ন হবে বলে বিএনপি সূত্রে জানা গেছে। এর আগে জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরের মাঠ, বাইরের অংশ এবং পুরো মানিক মিয়া এভিনিউতে জানাজা হবে। সরকার খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আজ সাধারণ ছুটিসহ তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে।

বিএনপির পক্ষ থেকে সাত দিনের শোক পালনের কর্মসূচি দেওয়া হয়।

গতকাল সকাল ১০টা ৮ মিনিটে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে বের হতে দেখা যায়। তিনি বিমর্ষ মুখে গাড়ির সামনের সিটে বসে ছিলেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আগের দিন রাতে মায়ের শারীরিক অবস্থার অবনতির খবরে তিনি এখানে আসেন।

দুপুরের পর এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে গিয়ে দেখা গেছে, ভিড় সামালাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্য ও দলীয় স্বেচ্ছাসেবকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।মানুষের চাপে উভয় পাশে যান চলাচল ব্যাহত হয়। হাসপাতালের সামনের রাস্তায় দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা নেতাকর্মী ও সমর্থকরা বিএনপির চেয়ারপারসনের ছবি প্রদর্শন করছেন। কেউ কেউ ডুকরে কেঁদে উঠছেন। অনেকে আহাজারি করছিলেন।

 

গাজীপুরের টঙ্গী থেকে আসা স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী জামিল খান বলেন, ‘রাজনীতির কঠিন সময়ে চলে গেলেন আমাদের অভিভাবক। এ ক্ষতি অপূরণীয়। মহান আল্লাহ তাঁকে জান্নাত দান করুন।’

সকাল ১১টায় এভারকেয়ার হাসপাতালের উল্টো দিকের রাস্তার পাশে ১০ থেকে ১২ জন মাদরাসা শিক্ষার্থীকে কোরআন তিলাওয়াত করতে দেখা যায়। জানা যায়, ওয়ারী থানা যুবদলের সাবেক নেতা সাইফুল হক এসব শিক্ষার্থীকে কোরআন খতমের জন্য নিয়ে এসেছেন। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘বেগম জিয়া পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। তাঁর জন্য দোয়া ও কোরআন তিলাওয়াত করা হচ্ছে।’

হাসপাতাল থেকে ২০ গজ দূরে রাস্তার পাশে সারিবদ্ধভাবে বসে ছিলেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের অনেক নেতাকর্মী। তাঁদের অনেকে খালেদা জিয়ার শোকে বিলাপ করে কাঁদছিলেন।

যাত্রাবাড়ী থেকে আসা মহিলা দলের ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা বিলকিস বেগম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের শেষ আশ্রয় ছিলেন বেগম জিয়া। তাঁর মৃত্যু আমরা মেনে নিতে পারছি না। তবু মেনে নিতে হচ্ছে। তিনি আমাদের মাতৃস্নেহে রেখেছিলেন। এ মুহূর্তে কিছু বলার ভাষা আমাদের নাই। আমরা উনার আত্মার শান্তি কামনা করছি।’

বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হকের সমর্থক পরিচয় দেওয়া শেলী নামের এক কর্মীকে ডুকরে কাঁদতে দেখা যায়। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলছিলেন, ‘খালেদা জিয়া মরে গেলেও তিনি ছায়া হয়ে থাকবেন। আমরা কী করব—মাকে হারালাম। এখন তারেক রহমানের আমরা ছাড়া কেউ নাই। আমরা শুধু বলব, জনগণ যেন তারেক রহমানের পাশে থাকে, তাঁর ক্ষতি যেন কেউ না করতে পারে।’

এর মধ্যে হাসপাতালে এসেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক ও আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি) চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মনজু।

ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ওপর জুলুম হয়েছে, নির্যাতন হয়েছে, কিন্তু তিনি কোনো দিন অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। তিনি কোনো দিন আপস করেননি। তিনি রাজপথে যুদ্ধ করেছেন।’

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘বাংলাদেশে যখনই গণতন্ত্র, দেশপ্রেম ও নিখাদভাবে মানুষের জন্য কাজ করার প্রশ্ন আসবে, তখনই খালেদা জিয়াকে মানুষ স্মরণ করতে হবে। তিনি সব সময় মানুষের পাশে দাঁড়াতেন। কৃষক, শ্রমিক ও মেহেনতি মানুষের পাশে তিনিই সবচেয়ে বেশি থেকেছেন। তিনি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় রাজপথে লড়াই করেছেন।’

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সারা দেশে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী থেকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। দিনভর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, অফিসপাড়া, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বিভাগীয় সব নগর ও শহর-গ্রামে শোকের পরিবেশ বিরাজ করে।

রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিকসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁর মৃত্যুতে শোক পালন করা হচ্ছে। স্থানীয় দলীয় কার্যালয়গুলোতে নেতাকর্মীদের কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ