মা বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় লাখো মানুষের ঢল নামলেও এই জনসমুদ্রে আজ ভীষণ একা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
কৈশোরেই বাবাকে হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়া তারেক রহমান গণতন্ত্র ও গণমানুষের মুক্তির আন্দোলনে ব্যস্ত মায়ের সাহচর্যও ঠিকমতো পাননি। পরবর্তীতে রাজনৈতিক জীবনে প্রবেশের পর হারান ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোকে। রাজনীতির জটিল চক্রে পড়ে কাটাতে হয়েছে ১৭ বছরের দীর্ঘ নির্বাসিত জীবন। সেই নির্বাসন শেষে দেশে ফেরার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় হারালেন জীবনের বড় আশ্রয়, মমতাময়ী মাকে।
মায়ের শেষ বিদায়ে জানাজার ঠিক আগ মুহূর্তে তারেক রহমানের ছোট্ট আবেগী দোয়া ও মোনাজাত অশ্রুসিক্ত করেছে লাখো জনতাকে। দিন ছয়েক আগে দেশে ফেরার পর থেকেই বিরামহীন ছুটে চলেছেন তিনি। অসুস্থ মায়ের খোঁজ নিতে নিয়ম করে হাসপাতালে গিয়েছেন, সোমবার (২৯শে ডিসেম্বর) মাঝরাত অবধি মায়ের পাশেই ছিলেন।
মঙ্গলবার (৩১শে ডিসেম্বর) ভোরে আবারও হাসপাতালে ছুটে যান, কিন্তু সেই ভোরেই না ফেরার দেশে চলে যান দেশের গণতন্ত্রের অভিভাবক।
মানিক মিয়া এভিনিউতে খালেদা জিয়ার জানাজায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকা জনস্রোতের ক্লান্তি ছিল না। এক সময় খালেদা জিয়ার বক্তৃতা শোনার জন্য মানুষ যেমন অপেক্ষা করত, আজ তার শেষ বিদায়েও সেই ভক্তি আর শ্রদ্ধার অপেক্ষা ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু এই বিশাল জনসমুদ্রের মাঝে তারেক রহমান যেন এক নিঃসঙ্গ সারথি।
বাবা, ভাই এবং মাকে হারিয়ে একদিকে চরম একাকিত্ব, অন্যদিকে শোক কাটিয়ে দল ও দেশের হাল ধরার ইস্পাত কঠিন চ্যালেঞ্জ এখন তার সামনে। জনতার প্রত্যাশা, ব্যক্তির একাকিত্ব জয় করে তারেক রহমান হয়ে উঠবেন সমষ্টির, মানুষের এবং দেশের নেতা।










