বৃহস্পতিবার | ২ এপ্রিল, ২০২৬ | ১৯ চৈত্র, ১৪৩২ | ১৩ শাওয়াল, ১৪৪৭

জেতার ম্যাচ টাই করে

 সুপার ওভারে হারলো রংপুর

স্পোর্টস ডেস্ক :

সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল রাজশাহী ও রংপুর। প্রথমে ব্যাট করে ১৫৯ রানে থেমেছিল রাজশাহী। জবাব দিতে প্রায় জয় নিশ্চিত করে ফেলা রংপুর শেষের নাটকীয়তায় থামে ১৫৯ রানেই। তাতে ফলাফল নির্ধারণে ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। যেখানে আর সুযোগ দেয়নি রাজশাহী। বিপিএলের ইতিহাসে এটি তৃতীয় সুপার ওভারের ঘটনা। এর আগে ২০১৯ ও ২০২০ সালে এমনটা হয়েছিল।এদিন টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৯ রান সংগ্রহ করেছিল রাজশাহী। দ্বিতীয় উইকেটে নাজমুল হোসেন শান্ত ও শাহিবজাদা ফারহানের ৯৩ রানের জুটির পর যদিও সংগ্রহটা আরও বড় করার সুযোগ ছিল। তবে তাদের বিদায়ের পর বাকিদের কেউ দায়িত্ব কাঁধে নিতে পারেননি। ফারহান ৪৬ বলে ৮ চার ও ২ ছক্কায় দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৫ রান করেন। শান্ত ৩০ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৪১ রান করেন। রংপুরের পক্ষে দারুণ বোলিংয়ে মাত্র ১৬ রান খরচায় ২ উইকেট নেন আলিস আল ইসলাম। সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিলেও ফাহিম আশরাফ খরচ করেন ৪৩ রান। এছাড়া ৩৪ রান খরচায় ১ উইকেট নেন মোস্তাফিজুর রহমান।

রান তাড়ায় নেমে শুরু থেকেই ভালো অবস্থানে ছিল রংপুর। দলীয় ২২ রানে লিটন দাসের আউটের পর দ্বিতীয় উইকেটে শতরানের জুটি গড়েন তাওহীদ হৃদয় ও দাউদ মালান। তাদের জুটিতে মনে হচ্ছিল সহজ জয়ই তুলে নেবে রংপুর। কিন্তু শেষদিকের নাটকীয়তায় সব এলোমেলো হয়ে যায়। দলীয় ১২২ রানে বিদায় নেন হৃদয়। ৩৯ বলে ৭ চারের মারে ৫৩ রান করেন তিনি। ফিফটি হাঁকিয়ে আরেক প্রান্ত অবশ্য তখনো আগলে রেখেছিলেন মালান। তবে তাকে সঙ্গ দিতে আসা সতীর্থরা একে একে হতাশ করেছেন। ৮ বলে ৯ রান করে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন কাইল মেয়ার্স।
 
এরপর ক্রিজে নেমে খুশদিল শাহ ঠিকঠাকই ব্যাট করছিলেন। শেষ ওভারে জয়ের জন্য মাত্র ৭ রানের দরকার ছিল রংপুরের। ক্রিজের একপাশে ৫০ বলে ৬ চার ও ২ ছক্কায় ৬৩ রানে অপরাজিত ছিলেন মালান। তবে স্ট্রাইকে আর যেতে পারেননি তিনি। পেসার রিপন ও রাজশাহীর ফিল্ডাররা কেড়ে নেন রংপুরের নিশ্চিত জয়।  প্রথম বলে খুশদিলকে (৭) সাজঘরে ফেরান এই পেসার।  এরপর ক্রিজে নেমে পরবর্তী ৩ বলে ৬ রান তুলেছিলেন নুরুল হাসান সোহান। তাতে ম্যাচ টাই হয়ে যায়। শেষ ২ বলে দরকার পড়ে মাত্র ১ রানের। কিন্তু পঞ্চম বলে তিনি ক্যাচ দিয়ে ফিরলে শেষ বলে ক্রিজে নেমে ১ রান নিতে ব্যর্থ হন অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও। তিনি রান আউট হলে ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে।
যেখানেও বাজিমাত করেন রিপন। তার হাতেই সুপার ওভারের বল তুলে দেন রাজশাহীর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। এবারও মন জয় করে নেন তিনি। ৬ বলে কোনো বাউন্ডারি হজম করেননি। তুলে নেন কাইল মেয়ার্সের উইকেট।  খরচ করেন মাত্র ৬ রান।  
রাজশাহীকে আটকাতে রংপুরের অধিনায়ক সোহান বল তুলে দেন অভিজ্ঞ মোস্তাফিজুর রহমানের হাতে বল। তবে কাটার মাস্টার প্রথম ডেলিভারিতেই তানজিদ তামিমের কাছে বাউন্ডারি হজম করেন। তার দ্বিতীয় ডেলিভারিতে ২ রান তুলে টাই করে নেন তানজিদ তামিম। আর তৃতীয় বলেই চার হাঁকিয়ে দলকে উপহার দেন জয়। 
এ জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান দখলেই রাখলো রাজশাহী। ৪ ম্যাচে ৩ জয়ে ৬ পয়েন্ট তাদের। ২ ম্যাচে ১ জয়ে ২ পয়েন্ট নিয়ে তিনে অবস্থান রংপুরের।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ