শুক্রবার | ৩ জুলাই, ২০২৬ | ১৯ আষাঢ়, ১৪৩৩ | ১৭ মহর্‌রম, ১৪৪৮

আইফোন ১৮ প্রো’র গোপন তথ্য ফাঁস!

যোগাযোগ ডেস্ক

মুম্বাইয়ের রাস্তায় টাঙানো অ্যাপল আইফোনের বিশাল বিজ্ঞাপনের পাশ দিয়ে যাচ্ছেন এক ব্যক্তি | ছবি: রয়টার্স

অ্যাপলের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান টাটা ইলেকট্রনিক্স বড় ধরনের সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। হ্যাকাররা প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৬৩০ গিগাবাইটের বেশি গোপন তথ্য চুরি করেছে। এরপর তারা আইফোন ১৮ প্রো মডেলের বিভিন্ন যন্ত্রাংশের ছবি ও সরবরাহকারীদের তালিকা ইন্টারনেটে ফাঁস করে দিয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরে এই ফোনটি বাজারে আসার কথা রয়েছে।

টাটা ইলেকট্রনিক্স বিশ্বজুড়ে অ্যাপল এবং টেসলার মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রাংশ তৈরি করে থাকে। জানা যায়, ‘ওয়ার্ল্ড লিকস’ নামে একটি র‌্যানসমওয়্যার গ্রুপ এই হ্যাকিংয়ের পেছনে রয়েছে। এই তথ্য ফাঁসের ফলে অ্যাপলের অত্যন্ত গোপনীয় বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনের অভ্যন্তরীণ চিত্র সামনে চলে এসেছে। এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অ্যাপল এবং তারা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

কী কী তথ্য ফাঁস হয়েছে
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গত ১২ জুন ওয়ার্ল্ড লিকস তাদের ডার্ক ওয়েব সাইটে এই চুরির দায় স্বীকার করে। তারা দুই লাখের বেশি ফাইল ইন্টারনেটে প্রকাশ করেছে। টাটা ইলেকট্রনিক্স কর্তৃপক্ষও এই সাইবার হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ফাঁস হওয়া ফাইলের মধ্যে আইফোন ১৮ প্রো-এর মূল সার্কিট বোর্ডের চিপ, ব্যাটারির অংশ এবং ক্যামেরা মডিউলের বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। কোন সরবরাহকারী কোন যন্ত্রাংশ দিচ্ছে, তা-ও এখন সবার সামনে। এর ফলে অ্যাপলের ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বী ও নকল পণ্য প্রস্তুতকারকেরা বড় ধরনের সুবিধা পেয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।

কীভাবে ঘটল হ্যাকিং
টাটা ইলেকট্রনিক্স জানিয়েছে, তারা এরই মধ্যে তাদের অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কে প্রবেশাধিকার সীমিত করেছে। পুরো বিষয়টির ফরেনসিক তদন্ত চলছে।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বড় হ্যাকিং হুট করে হয় না। হ্যাকাররা অনেক দিন ধরে সিস্টেমের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ভেতরে অবস্থান করছিল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার শক্তি নির্ভর করে তার সবচেয়ে দুর্বল লিংকের ওপর। এ ক্ষেত্রে অ্যাপল নিজে আক্রান্ত না হলেও তার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান টাটার দুর্বলতার কারণে এই তথ্যগুলো ফাঁস হয়ে গেছে।

কারা এই হ্যাকার
ওয়ার্ল্ড লিকস হলো একটি কুখ্যাত র‌্যানসমওয়্যার গ্রুপ। এরা মূলত ‘হ্যাক অ্যান্ড লিক’ মডেলে কাজ করে। বড় বড় কোম্পানি থেকে তথ্য চুরি করে তারা মোটা অংকের মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না দিলে তারা সেই তথ্য ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়।

এর আগে, গত বছরের জুলাই মাসে তারা ডেল কোম্পানি থেকে ১ দশমিক ৩ টেরাবাইট তথ্য চুরি করেছিল। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তারা নাইকির ১ দশমিক ৪ টেরাবাইট তথ্য চুরিরও দাবি করেছিল।

টাটা ইলেকট্রনিক্স থেকে চুরি হওয়া তথ্যগুলো মূলত প্রাতিষ্ঠানিক ও বাণিজ্যিক। এখন পর্যন্ত কোনো সাধারণ গ্রাহকের পেমেন্ট ডিটেইলস বা ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হওয়ার প্রমাণ মেলেনি।

এ ঘটনার ফলে অ্যাপল এবং টাটা ইলেকট্রনিক্স উভয়েরই সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। চীন থেকে তাদের উৎপাদন ব্যবস্থা ভারতে সরিয়ে নেওয়ার যে প্রক্রিয়া চলছিল, তাতেও কিছুটা ধাক্কা লাগতে পারে। কারণ অ্যাপল তার পণ্যের গোপনীয়তা বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত কঠোর।

২০২৫ সালে বিশ্বের প্রতি চারটি আইফোনের মধ্যে একটি ভারতে তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ আইফোন ভারতে সংযোজন করা হয়েছে। মাত্র চার বছর আগেও ভারতের এই হার ছিল মাত্র ছয় শতাংশ।

সূত্র: আল-জাজিরা

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ