২০১৩ সালের মে মাসে রাজধানীর মতিঝিলে শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এ মামলায় তাকে আসামি করা হবে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) চিফ প্রসিকিউটর জানান, রাতের আঁধারে শাপলা চত্বরে যে হত্যাযজ্ঞ ঘটে, তাতে ইনুর সম্পৃক্ততা পাওয়ায় এ মামলায় তাকেও আসামি করা হবে।
তিনি আরও বলেন, শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড যখন সংগঠিত হয় তখন তথ্য মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন হাসানুল হক ইনু। আমরা এই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে জানতে পারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও তথ্যমন্ত্রীর নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে সেদিন দিগন্ত টেলিভিশন এবং ইসলামিক টেলিভিশনের লাইভ টেলিকাস্ট বন্ধ করা হয়। শুধু তা-ই নয়, ওই রাতে ইসলামিক টেলিভিশনের অফিস ভাঙচুর করা হয় এবং ওই রাতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই দুটি টেলিভিশনের সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়।
আমিনুল ইসলাম বলেন, তখন তথ্যমন্ত্রী হিসেবে ইনু এই শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড গোপন করার জন্য এবং আলামত নষ্ট করার জন্য দুটি টেলিভিশনের সরাসরি সম্প্রচার বন্ধ করেন। এভাবে শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ইনুর সহযোগিতা ছিল। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে এই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন ও ফরমাল চার্জ দাখিল করা হবে।
সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তর টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু ও সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপা এই মামলায় ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার আছেন। মামলার অপর আসামি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, বেনজীর আহমেদ, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার প্রমুখ পলাতক। এর আগে চিফ প্রসিকিউটর জানিয়েছিলেন, ২০১৩ সালের মে মাসে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে এখন পর্যন্ত ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে ৫৮ জনের হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
শাপলা চত্বরের মামলায় হাসানুল হক ইনুকে আসামি করার বিষয়ে তার আইনজীবী প্যানেলের সদস্য মোহাম্মদ আবুল হাসান কালবেলাকে বলেন, নতুন মামলায় তাকে আসামি করা মানে এটি প্রতিহিংসামূলক। ট্রাইব্যুনালে এরকম কোন নজির নাই যে এই মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলা থেকে আবার আরেকটা মামলা করা হয়। একজনের বিরুদ্ধে একটাই অভিযোগ হয় এবং তার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ আসতে পারে সে এক মামলায়। যেরকম গোলাম আজমের বিরুদ্ধে হয়েছিলো। তার যত অপরাধ সব একটার ভিতরে আনা হয়। তো এখানে যদি তার কোন অপরাধ থাকত সেটা তার ভিতরে আনতে পারত। সেটা নাই। এখন যদি আনার চেষ্টা করে তাহলে সেগুলো আমি মনে করব প্রতিহিংসা মূলক।










