ঢাকার মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং ‘এলেক্স গ্রুপের’ হোতা ইমন ওরফে ‘এলেক্স’ ইমনকে কুপিয়ে হত্যা মামলার এক আসামিকে দেখিয়ে নিহতের মা বলেছেন, ‘সাদা গেঞ্জি পরা রানা, এই সাদা গেঞ্জি পরেই ও আমার ছেলেকে কুপিয়েছে।’
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলামের আদালতে দাঁড়িয়ে রানাকে দেখিয়ে এ কথা বলেন তিনি।
গত ১২ এপ্রিল বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বুদ্ধিজীবী রোডের বেড়িবাঁধের ঢালে প্রতিপক্ষের কয়েকজন মিলে ইমনকে কুপিয়ে আহত করে। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পর দিন তার মা ফেরদৌসী মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর সাঈদ হোসেন শিমুল ওরফে আইয়ুশ, তুহিন বিশ্বাস, রাব্বি কাজী, সুমন ওরফে পাখির পোলা সুমন, রানা এবং রাসেল ওরফে পিচ্ছি রাসেলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) তাদের আদালতে হাজির করে সাত দিন করে রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাধন কুমার মন্ডল। ওইদিন আসামিদের কারাগারে পাঠিয়ে আজ রিমান্ড শুনানির দিন রাখেন। এ দিন শুনানিকালে তাদের আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এটা সারা দেশের আলোচিত ঘটনা। এলেক্স ইমনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। আসামিরা সবাই এজাহারনামীয় আসামি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের রিমান্ড প্রয়োজন।
তুহিন, সাঈদ ও রাব্বির পক্ষে অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম শফিক রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, আসামিদের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়নি। তারা ঘটনাস্থলে ছিল না। মামলার বাদী বলেছেন, তারা ঘটনাস্থলে ছিল না। বাদী আদালতে উপস্থিত আছেন। প্রয়োজনে তার কাছে জিজ্ঞাসা করতে পারেন। এ সময় বাদী ফেরদৌসীকে ডাকেন বিচারক।
বিচারকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওই তিন জন (তুহিন, সাঈদ ও রাব্বি) ঘটনার সঙ্গে জড়িত না। তারা আমার ছেলেকে বাঁচাতে গিয়েছিল। কিন্তু ওরা তাদের আমার ছেলের কাছে যেতে দেয়নি।
এ সময় কাঠগড়ায় রানাকে দেখিয়ে ফেরদৌসী বলেন, ওই সাদা গেঞ্জি পরা লোকটা। এই সাদা গেঞ্জি পরেই আমার ছেলেটাকে কুপিয়েছে।
এ সময় বিচারক আইনজীবীকে বলেন, ভিডিওটা দেখছেন? আইনজীবী বলেন, ‘হ্যা।’ ভিডিও ভয়ঙ্কর বলে উল্লেখ করেন বিচারক। পরে আদালত রানার চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
এদিকে এ দিন এলেক্স ইমনের মায়ের সঙ্গে তার স্ত্রী, ভাই, মামাসহ স্বজনরা আদালতে হাজির হন। এজলাসে নেওয়ার সময় ইমনের মা ও স্ত্রী ঝুমা আসামিদের ওপর হামলা করে। পরে পুলিশ সদস্যরা তাদের সরিয়ে দেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১২ এপ্রিল দুপুর দেড়টার দিকে এলেক্স ইমনকে বাসায় রাখা মাছ নিয়ে আসতে খবর পাঠান তার শ্বশুর। মাছ আনতে বাসা থেকে বের হন তিনি। আড্ডা দিয়ে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে মোহাম্মদপুরের বুদ্ধিজীবী রোডের বেড়িবাঁধের ঢালে পৌঁছাতেই পূর্ব শত্রুতার জেরে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। তাকে এলোপাতারি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। রক্তক্ষরণে জ্ঞান হারায় এলেক্স ইমন। আশপাশের লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।









