টানা বর্ষণে পেকুয়ায় জনজীবন স্থবির, প্লাবিত অন্তত ২০ গ্রাম

যোগাযোগ ডেস্ক :

[ppsp_buttons]

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সার্বিক জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। নিম্নাঞ্চলের অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় হাজারো মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। বসতবাড়ি, গ্রামীণ সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

‎সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের আবুল হোসেন সিকদার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ও বিদ্যালয়ে প্রবেশের সড়ক পানিতে ডুবে গেছে। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতে চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। অনেক অভিভাবক সন্তানদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিদ্যালয়ে পাঠাতে দ্বিধায় পড়ছেন।

বুধবার (০৮ জুলাই) ‎সরেজমিনে দেখা গেছে, উজানটিয়া, মগনামা, রাজাখালী, টইটং, শিলখালী, পেকুয়া সদর, বারবাকিয়া ও পেকুয়া পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। অনেক স্থানে কাঁচা রাস্তা কাদাময় ও পিচ্ছিল হয়ে পড়ায় হেঁটে চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে অভিভাবকদের সহায়তা নিতে হচ্ছে।

টইটং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ও কয়েকটি শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পড়ায় স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। পানিবন্দী অবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। শিক্ষকরা জানান, এ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে শিক্ষার্থীদের পাঠক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

‎এদিকে টইটং ইউনিয়নের হাজীবাজার ও সোনাইছড়ি, শিলখালী ইউনিয়নের মাঝেরঘোনা, হেদায়াতাবাদ, কাছারীমোড়া ও পেঠান মাতবরপাড়া, পেকুয়া পৌরসভার টেকপাড়া, সাগরপাড়া, সিরাদিয়া ও বিলহাচুরা, পেকুয়া সদর ইউনিয়নের মোরারপাড়া, সৈকতপাড়া ও পূর্ব মেহেরনামাসহ বারবাকিয়া ইউনিয়নের পাহাড়িয়াখালী গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার বহু বসতঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন।

‎পানিবন্দী মানুষের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কৃষকরাও। বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলের আমন ধানের জমি, সবজিক্ষেত ও মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেক গ্রামীণ সড়ক ডুবে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে কর্মজীবী মানুষ, রোগী ও শিক্ষার্থীরা সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, খাল-নালা ভরাট এবং কিছু এলাকায় স্লুইসগেটের কার্যকারিতা কমে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নেমে যেতে পারছে না। এতে অল্প সময়ের ভারী বর্ষণেই জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করছে।

‎এদিকে টানা বর্ষণের মধ্যে পাহাড়ধসের ঘটনাও ঘটেছে। গত সোমবার (৬ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার টইটং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের খুন্যাভিটার আলিম্মার ঝিরি এলাকায় পাহাড়ধসে মিনহাজ (৬) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় জান্নাতুল ফেরদৌস (৬৫) নামে এক বৃদ্ধা গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় পাহাড়ঘেঁষা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted