সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ঘোষণা দিয়েছেন। যারা অবৈধভাবে দেশটিতে বসবাস করেন কিংবা স্বল্পমেয়াদি ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং পরবর্তীতে সেখানে সন্তান জন্ম দেন, তারা পুরনো নিয়মে দেশটির নাগরিকত্ব পাবেন না।
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিধান রয়েছে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশু যেখানেই বসবাস করুক না কেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার বৈধতা অর্জন করে। ট্রাম্প এই নিয়ম বদল করার নির্বাহী আদেশ দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ আদালত বিষয়টি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কার্যকর করার ঘোষণা দিতে পারেন।অথচ ঘরের মাঠের বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের জার্সিতে আলো কাড়া ২৪ বছর বয়সী স্ট্রাইকার ফ্লোরিয়ান ব্লোগান জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়াদের একজন। তিনি প্যারাগুয়ের বিপক্ষে দেশের উদ্বোধনী ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন। গল্পটা বেশ মজারই। ব্লোগানের বাবা-মা নাইজেরিয়ান। বসবাস করতেন লন্ডনে। মাঝে মধ্যে নিউ ইয়র্ক যেতেন। ২০০১ সালেও তেমনই এক সফরে গিয়েছিলেন।
কিন্তু ব্লোগানের মা সন্তান জন্মদানের এতোটাই কাছে ছিলেন যে, তার বিমানে ভ্রমণ করে ইংল্যান্ডে ফিরে আসার অনুমতি মেলেনি। যে কারণে ব্লোগানের জন্ম হয় যুক্তরাষ্ট্রে। ওই সূত্রে নাগরিকত্ব পেয়ে তিনি খেলছেনও যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের হয়ে। অথচ তার সামনে সুযোগ ছিল ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার জন্য লড়াই করার। পিতা-মাতার সূত্রে নাইজেরিয়ার দরজা খোলাই ছিল।ব্লোগানের ২০২৩ সালে মাত্র ২১ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের জার্সিতে অভিষেক। ২৮ ম্যাচে ১১ গোল করা এই তারকা যুক্তরাষ্ট্রের অনূর্ধ্ব-১৮ দলে খেলেছেন। তবে অনূর্ধ্ব-১৭, অনূর্ধ্ব-২০ ও ২১ খেলেছেন ইংল্যান্ডের হয়ে। আর্সেনাল একাডেমির এই গ্রাজুয়েট ২০২২-২৩ মৌসুমে ধারে ফ্রান্স ক্লাব রেঁসে যোগ দিয়ে ৩৭ ম্যাচে ২১ গোল করে নজরে আসেন। পরের মৌসুমে মোনাকোয় যোগ দিতেই যুক্তরাষ্ট্র তাকে ডেকে জাতীয় দলে খেলায়।
অথচ ট্রাম্পের পরিকল্পনা ও ঘোষণা বাস্তবায়ন হলে নিয়ম অনুযায়ী, ব্লোগানার নাগরিকত্ব বাতিল হওয়ার কথা। তরুণ এই স্ট্রাইকারকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ান পুলিসিক বলেছেন, ‘মার্কিনরা সত্যিই ভাগ্যবান যে ব্লোগানকে পেয়েছে। এই ছেলে অসাধারণ। আশা করছি বিশ্বকাপে তার ফর্ম এমনই যাবে।’










