প্রেমের টানে কুষ্টিয়ায় এসে প্রেমিকাকে বিয়ে করলেন চীনা যুবক

যোগাযোগ ডেস্ক:

‘ভালোবাসা যত বড়, দূরত্ব তত ছোট’ এ কথায় যেন বাস্তবে প্রমাণ করল ভালোবাসার টানে হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে চীন থেকে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ছুটে আসা যুবক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়, এক বছরের প্রেম, আর সেই সম্পর্কের পরিণতি হলো বিয়েতে। চীনা যুবক চেন বাও মিং এখন কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
আর এই সম্পর্কের পূর্ণতা দিতে সোমবার (২০ এপ্রিল) বাংলাদেশে এসে কুষ্টিয়া আদালতে বিবাহ সম্পন্ন করেন তারা।
তাসলিমা ভেড়ামারা উপজেলার ১২ মাইল এলাকার পশ্চিম বাহিরচর ইউনিয়নের বাসিন্দা মধু মোল্লার মেয়ে এবং চেন বাও মিং চীনের গাতসু প্রদেশের দাবান চাউন চেনজিয়া গ্রামের মুসলিম চেন ইউয়ানঝি’র ছেলে।
তাসলিমার পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ এক বছর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাসলিমা খাতুনের সঙ্গে চীনা যুবক চেন বাও মিংয়ের পরিচয় হয়। আর সেখান থেকে প্রেমের সম্পর্ক হয় তাদের। চীনা যুবক চেন বাও মিং পেশায় একজন রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী।
পরিবারের সম্মতি নিয়ে চেন বাও মিং সোমবার ২০ এপ্রিল বাংলাদেশে এসে পৌঁছায়। তাসলিমার পরিবার তাকে এয়ারপোর্ট থেকে রিসিভ করে ভেড়ামারার বাড়িতে নিয়ে আসে। পরে এলাকাবাসীর পরামর্শে তারা কুষ্টিয়ার আদালতে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বর্তমানে নতুন এই দম্পতি ভেড়ামারায় তাসলিমার বাড়িতেই অবস্থান করছেন।
নব দম্পতিকে এক নজর দেখতে তসলিমার বাড়িতে স্থানীয় এলাকাবাসী ছাড়াও বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এসে ভিড় করছেন। এ সময় তারা বিদেশি নাগরিককে দেখে নানা রকম কৌতুহল প্রকাশ করেন।
তাসলিমা খাতুন বলেন, উভয় পরিবারের সম্মতিতে আমাদের বিয়ে হয়েছে। আমার শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমার বাবা-মার নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। এই বিয়েতে আমি খুব খুশি।
সবার কাছে দোয়া চাই আমাদের জন্য।
চীনা যুবক চেন বাও মিংয়ের সঙ্গে ট্রান্সলেটের মাধ্যমে কথা হলে তিনি বলেন, আমি তাকে ভালোবাসি। আমরা ভালোবেসে একে অপরের সঙ্গে বিয়ে করেছি। আমি তাদের সঙ্গে অভ্যস্ত হওয়ার চেষ্টা করছি। কারণ তার পরিবার খুব দয়ালু ও বন্ধুত্বপূর্ণ। আমার স্ত্রীর কাগজপত্র প্রস্তুত করে তাকে চীনে নিয়ে যেতে চাই।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ