অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে পুলিশের হাতে একাধিক ক্লু

যোগাযোগ ডেস্ক :

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক দম্পতির ছেলে অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্লু পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, ‘অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন এক যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সূত্র মিলেছে। তবে শিশুটিকে শুধু আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য হত্যা করা হয়েছে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘তদন্তে একাধিক দল মাঠে কাজ করছে। আটক যুবকের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হতে আরও সময় প্রয়োজন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার মোবাইল ফোনের তথ্য এবং সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করা হচ্ছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণের পরই তার ভূমিকা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। যাকে আটক করা হয়েছে, তিনি নির্দোষও হতে পারেন, আবার ঘটনার সঙ্গে জড়িতও হতে পারেন।’ পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে মূল হত্যাকারীদের পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। কারণ, তাদের নাম প্রকাশ করা হলে তারা আত্মগোপনে চলে যেতে পারে। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।’ একাধিক সূত্রের দাবি, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তুহিন নামে এক যুবকের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। বিকেল থেকে অপ্রতীমের সঙ্গে ওই যুবক ছিল বলে জানা গেছে। তুহিন বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।
এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কোটবাড়ির বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বেরিয়ে নিখোঁজ হয় ১৩ বছর বয়সী অপ্রতীম। শনিবার দুপুরে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার দক্ষিণ মোড়ের দক্ষিণ পাশের একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। অপ্রতীম বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান।
অপ্রতীমের মরদেহের প্রথম প্রত্যক্ষদর্শী আবদুল কাদের জিলানী বলেন, ‘বাঁশ কাটতে গিয়ে তারা জঙ্গলের মধ্যে মরদেহটি দেখতে পান। প্রথমে দূর থেকে কাউকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখেছিলেন বলে মনে হয়। পরে কাছে গিয়ে মাথায় জখমের চিহ্ন দেখতে পান। এরপর মামুন নামে একজনকে বিষয়টি জানালে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি অপ্রতিমের বলে শনাক্ত করেন।’
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবদুল হাকিম বলেন, ‘ঘটনার পর পুলিশ, ডিবি, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে অপ্রতিমকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তার সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোনটিও পাওয়া যায়নি।’
হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ