যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি জনসমর্থন তার রাজনৈতিক জীবনের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স/ইপসোস জরিপে উঠে আসা তথ্যে দেখা গেছে, ট্রাম্পের কাজের প্রতি অনুমোদন জানিয়েছেন মাত্র ৩২ শতাংশ মার্কিন নাগরিক। বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের ভূমিকা এবং ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে।
চার দিন ধরে চালানো এই জরিপ শেষ হয় গতকাল রোববার (২১সেপ্টেস্বর)। এই সময়ের মধ্যে ট্রাম্প তিনটি বড় সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউস থেকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। একই সময়ে ওয়াশিংটনের ঐতিহাসিক কেনেডি সেন্টার থেকে নিজের নাম সরানো হলে ভবনটি ভেঙে ফেলার কথাও বলেন তিনি।
গত সপ্তাহের জরিপে ট্রাম্পের অনুমোদন ছিল ৩৫ শতাংশ। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে তা আরও ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে। নিজ দলের রিপাবলিকানদের মধ্যেও তার প্রতি সমর্থন ৮২ শতাংশ থেকে কমে ৭৩ শতাংশে নেমেছে।
জীবনযাত্রার ব্যয়েই বড় অসন্তোষ
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বারের মতো হোয়াইট হাউসে ফেরার সময় ট্রাম্প মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বিদেশি যুদ্ধ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তার অনুমোদন ছিল ৪৭ শতাংশ।
কিন্তু নতুন জরিপে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন মাত্র ১৭ শতাংশ মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রের ভোটাররা বলছেন, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
রিপাবলিকানদের মধ্যেও এ নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। প্রথমবারের মতো ট্রাম্পের জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলার পদ্ধতি নিয়ে অসন্তুষ্ট রিপাবলিকানদের সংখ্যা সন্তুষ্টদের ছাড়িয়ে গেছে। অসন্তুষ্ট ৫১ শতাংশ, বিপরীতে সন্তুষ্ট ৪৪ শতাংশ।
ইরান যুদ্ধের প্রভাব
ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রল ও ডিজেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস সরবরাহের একটি বড় অংশ বিশ্ববাজার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরানে মার্কিন হামলাকে সমর্থন করেছেন মাত্র ৩৪ শতাংশ জরিপে অংশ নেওয়া মানুষ। অন্যদিকে ৮২ শতাংশ মনে করেন, এই সংঘাত দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে। এর মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের প্রায় ৯০ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের তিন-চতুর্থাংশ এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।









