জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বাস ও মিনিবাসের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সোমবার (২০ এপ্রিল) এ বিষয়ে প্রস্তাব দেবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। পরে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে। রোববার (১৯ এপ্রিল) রাত আটটার দিকে রাজধানীর বনানীতে বিআরটিএ কার্যালয়ে বৈঠক শুরু হয়ে রাত ১০টার দিকে শেষ হয়।
বৈঠকে বিআরটিএর কর্মকর্তাদের পাশাপাশি পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বর্তমানে দূরপাল্লার রুটে বাসভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ১২ পয়সা নির্ধারিত রয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাসভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ৪২ পয়সা। বৈঠকে অংশ নেওয়া সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রথা চালু রয়েছে যে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি লিটারে ১ টাকা বাড়লে বা কমলে বাসভাড়া ১ পয়সা সমন্বয় করা হয়।
সে হিসাবে ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বাড়ায় ভাড়া ১৫ পয়সা বৃদ্ধির বিষয়টি আলোচনায় আসে। তবে পরিবহন মালিকরা দাবি করেছেন, ২০২২ সালের পর বাস ও মিনিবাসের ব্যয় বিশ্লেষণ করা হয়নি। এ সময়ের মধ্যে ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় খুচরা যন্ত্রাংশ ও ইঞ্জিন অয়েলের খরচ বেড়েছে। তাই ভাড়া নির্ধারণে এসব বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সূত্র আরও জানায়, বৈঠকে বিআরটিএ ও পরিবহন মালিক পক্ষ কিলোমিটারপ্রতি ২২ পয়সা ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে প্রাথমিকভাবে একমত হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। কারণ বৈঠকের কার্যবিবরণীতে কেউ স্বাক্ষর করেননি।
সকালে বিআরটিএ মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠাবে বলে জানা গেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে মহানগর ও দূরপাল্লা; দুই ক্ষেত্রেই কিলোমিটারপ্রতি ২২ পয়সা করে ভাড়া বাড়তে পারে। এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয়ের হাতে।
এদিকে, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি বাসভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১৫ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে।
সংগঠনটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে পুঁজি করে বাস মালিক সমিতির প্রভাবশালী নেতারা সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে একচেটিয়া ভাড়া বৃদ্ধির চেষ্টা করছে। রাতের বৈঠককে তারা এমন চেষ্টার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে বলে অভিযোগ করা হয়।
গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন ও গণমাধ্যমকে এড়িয়ে বিআরটিএ সদর দপ্তরে গোপনে বৈঠকের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এসব অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে তিন দফায় জ্বালানি তেলের দাম ৩ টাকা করে কমানো হলে বাসভাড়া ৩ পয়সা করে কমানো হয়েছে। একইভাবে ২ টাকা কমানোর ক্ষেত্রেও ২ পয়সা হারে ভাড়া কমানো হয়েছে। এবার প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বাড়ায় কিলোমিটারপ্রতি ১৫ পয়সা ভাড়া বাড়ানোই যৌক্তিক।
তিনি আরও বলেন, এর বেশি ভাড়া বৃদ্ধি করা হলে তা জনঅসন্তোষ তৈরি করবে এবং সরকারের জনপ্রিয়তায় প্রভাব ফেলতে পারে। এ ধরনের একচেটিয়া সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।









