বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ায় পাকিস্তানজুড়ে চরম জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের সরকার করোনাকালের লকডাউনের মতোই বেশ কিছু কড়া নিয়ম জারি করেছে। সরকারি খরচ কমাতে নতুন গাড়ি কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি বিয়েবাড়ির খাবারের তালিকায় কেবল ‘এক পদ’ বা একটি মাত্র খাবার রাখার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তানের মন্ত্রিপরিষদ এই নতুন বিধিনিষেধের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ জানান, সারা বিশ্বে তেলের দাম বাড়ায় জিনিষপত্রের দামও বেড়ে গেছে। তাই দেশের সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ না দিয়ে সরকার ও উচ্চবিত্তদেরই আগে ত্যাগ স্বীকার করতে হবে।
নতুন এই নিয়মের অধীনে সব সরকারি গাড়ির তেল ব্যবহারের কোটা একধাক্কায় অর্ধেক বা ৫০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, তবে সেনা, পুলিশ ও জরুরি সেবার গাড়িগুলো এর আওতামুক্ত থাকবে। একই সঙ্গে সরকারি খরচে যেকোনো নতুন গাড়ি কেনাও সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। আমোদপ্রমোদ ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডেও বেশ কিছু নিয়ম চাপানো হয়েছে। এখন থেকে রাত ৯টার মধ্যে সব দোকানপাট, মার্কেট ও শপিংমল বন্ধ করতে হবে। বিয়ের হল বা অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠান রাত ১০টা এবং রেস্তোরাঁ ও ক্যাফেগুলো রাত ১১টার মধ্যে বন্ধের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অপচয় রুখতে বিয়ের মেহমানদের জন্য এক পদের বেশি খাবার পরিবেশন করা যাবে না। তবে ফার্মেসি, হাসপাতাল, পেট্রোল পাম্প ও আইটি সার্ভিসের মতো জরুরি ক্ষেত্রগুলো এই সময়ের কড়াকড়ি থেকে ছাড় পাবে।
এছাড়া আগামী তিন মাস সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশযাত্রা পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। খুব জরুরি প্রয়োজনে বিদেশ যেতে হলেও বিমানে ইকোনমি ক্লাসে ভ্রমণ করতে হবে। জ্বালানির খরচ বাঁচাতে সরকারি দপ্তরের সব মিটিং অনলাইনে করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মূলত গত ফেব্রুয়ারি মাসে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই পাকিস্তান এই গভীর শক্তিসংকটে পড়েছে। দেশটি তাদের প্রয়োজনীয় তেলের সিংহভাগই হরমুজ প্রণালি দিয়ে আমদানি করে থাকে, যা চলমান যুদ্ধের কারণে চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে দেশটিতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছায় সরকার এমন কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছে। এর আগেও সংকট সামাল দিতে মার্চ মাসে স্কুল বন্ধ রাখা ও জাতীয় দিবসের প্যারেড বাতিল করেছিল পাকিস্তান সরকার।










