মঙ্গলবার | ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ | ১৫ বৈশাখ, ১৪৩৩ | ১০ জিলকদ, ১৪৪৭

মাদক-জুয়ার বিরুদ্ধে শুরু হচ্ছে সুসমন্বিত অভিযান : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

যোগাযোগ ডেস্ক :

মাদক, জুয়া ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে আগামী ৩০ এপ্রিলের পর সারাদেশে সুসমন্বিত অভিযান শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার (২৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে তিনি এ ঘোষণা দেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এর আগে নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) জয়নুল আবদিন ফারুক তার নোটিশে বলেন, রাত হলেই বুনো উল্লাস, দমে না সিসা লাউঞ্জ। রাজধানীর অভিজাত এলাকার আবাসিক ভবন, রেস্টুরেন্ট ও ক্যাফের আড়ালে গড়ে ওঠা অবৈধ সিসা লাউঞ্জ বন্ধ করা যাচ্ছে না। বার বার অভিযান চালানো হলেও বন্ধ হচ্ছে না। কেউ কেউ ঠিকানা পরিবর্তন করে। কেউ কিছু কিছু প্রশাসনের ইঙ্গিতে চালাচ্ছে এই অবৈধ ব্যবসা। ব্যবস্থা নিন।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির কাছে আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশে জুয়া, অনলাইন জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছি। আগামী ৩০ এপ্রিল সংসদের সেশন শেষ হওয়ার পর আমরা সারাদেশে একটি সুসমন্বিত অভিযান পরিচালনা করব। এ দেশের যুবসমাজকে রক্ষা করতে এর কোনো বিকল্প নেই।’

সীসা বারের বিষয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলকে অভিযুক্ত করে তিনি বলেন, ‘২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের কতিপয় কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, উত্তরা ও বারিধারার মতো অভিজাত এলাকায় রেস্টুরেন্ট ও ক্যাফে ব্যবসার আড়ালে অবৈধ সিসা বার ও মাদক স্পট গড়ে উঠেছিল, সেখানে মাদক সেবনসহ বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড হতো। বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে সিসা বার বন্ধ করা হলেও পরে প্রভাব খাটিয়ে তা চালু করা হত। বর্তমানে এসব স্থানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। গত ১৬ ও ২০ এপ্রিল রাজধানীর গুলশানসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সিসা ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।’

সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘অভিজাত এলাকায় ঠিকানা পরিবর্তন করে বা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে যাতে কেউ অবৈধ ব্যবসা করতে না পারে, সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এর সঙ্গে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেলে গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যদি কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এসব অবৈধ ব্যবসায় মদদ দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মাধ্যমেও ট্রেড লাইসেন্সবিহীন এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে বন্ধের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার মাদককে জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে নির্বাচনি ইশতেহারে চিহ্নিত করেছে। অবৈধ সিসা লাউঞ্জের ব্যবসা চালু রাখার জন্য রাষ্ট্রপক্ষের বিপক্ষে ৫টি রিট দায়ের করেছে মালিকেরা। এসব মামলায় মহামান্য হাইকোর্টের রুল ও নির্দেশনার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর আপিল করেছে। আপিল বিভাগ অন্তর্বর্তী আদেশ ভেকেট করে দিয়েছে।’

জয়নুল আবদিন ফারুকের সম্পূরক প্রশ্নের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চান বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরে কতজনের মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করতে হলে সংসদ সদস্য আমাকে নোটিশ দিলে পরবর্তীতে বলতে পারব।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ