হাদিসের বাণী

অনুশোচনা বান্দাকে আল্লাহর প্রিয় করে তোলে

অনলাইন ডেস্ক :

বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) তাঁর রব থেকে বর্ণনা করেন, কোনো বান্দা একটি পাপ করে বলল, হে আমার রব, আমাকে ক্ষমা করে দিন। তখন আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার বান্দা একটি গুনাহ করে ফেলেছে, অতঃপর সে জেনেছে যে, তার একজন রব আছেন, তিনি গুনাহ মাফ করে দেন অথবা গুনাহের জন্য ধরবেন।

অতঃপর সে আবার গুনাহ করে বলল, হে আমার রব, আপনি আমার গুনাহ ক্ষমা করে দিন।তখন আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার বান্দা একটি গুনাহ করেছে, অতঃপর সে জেনেছে যে, তার একজন রব আছেন, যিনি গুনাহ ক্ষমা করে দেন অথবা গুনাহের কারণে তিনি ধরবেন। (আমার বান্দার এই ভয়ের কারণে) আমি আমার বান্দাকে মাফ করে দিলাম। তাই সে যা মন চায়, তাই করুক।

(সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭৫০৭, সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৬৯৮৬, মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১০৩৭৯)শিক্ষা ও বিধান
১. আল্লাহ তাআলা অসীম ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। তাই বান্দা আন্তরিকভাবে তাওবা করলে আল্লাহ তার গুনাহ ক্ষমা করে দেন।

২. গুনাহের পর হতাশ হওয়া নয়, বরং তাওবা করা উচিত। আর মুমিন কখনো আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয় না।

৩. আন্তরিক তাওবার দরজা সর্বদা খোলা। এমনকি একই গুনাহ বারবার হয়ে গেলেও যদি বান্দা লজ্জিত হয়ে আল্লাহর কাছে ফিরে আসে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন।

৪. গুনাহের কারণে আল্লাহর শাস্তিকে ভয় করা উচিত। কেননা আশা ও ভয়ের মধ্যে ভারসাম্য রেখে জীবনযাপনই মুমিনের বৈশিষ্ট্য।

৫. তাওবার শর্ত হলো অনুতপ্ত হওয়া।

শুধু মুখে ‘ক্ষমা করুন; বলাই যথেষ্ট নয়; অন্তরে অনুশোচনা থাকতে হবে এবং গুনাহ ছেড়ে দেওয়ার দৃঢ় সংকল্প থাকতে হবে।৬. পাপকে হালকা বা বৈধ মনে করা যাবে না। এই হাদিস পাপে উৎসাহ দেয় না; বরং পাপের পর দ্রুত আল্লাহর কাছে ফিরে আসতে শেখায়।

৭. আল্লাহ বান্দার আন্তরিকতা দেখেন। বান্দার হৃদয়ের অনুশোচনা ও আল্লাহভীতি তাকে ক্ষমা লাভের যোগ্য করে তোলে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted