রাজধানীতে দুই বাসে আগুন, বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফারণে আতঙ্ক

যোগাযোগ ডেস্ক :

রাজধানীর ৭ জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণের পর চিটাগং রোড ও কাফরুল থানার সামনে বাসে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। কে বা কারা আগুন লাগিয়েছে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেনি পুলিশ।
এই ঘটনার কিছুক্ষণ পরে রামপুরায় বিটিভি ভবনের দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে কাফরুল থানার সামনে বাসটিতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। ডিএমপির মিরপুর অঞ্চলের সহকারী কমিশনার আবুল বাসার এ তথ্য নিশ্চিত করেন। আবুল বাসার বলেন, থানা–সংলগ্ন এলাকায় একটি ফাঁকা বাসে আগুন লাগার ঘটনা শুনেছেন তিনি। ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। গিয়ে বিস্তারিত জানাতে পারবেন। এ ছাড়া চিটাগং রোডের একটি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
এর আগে আজ দুপুর থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত যাত্রাবাড়ী থানার প্রধান ফটকসহ রাজধানীর ৭ স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তায় এলাকায় বিস্ফোরণে এক অটোরিকশাচালক আহত হয়েছেন। কে বা কারা এসব বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেনি পুলিশ।
যাত্রাবাড়ী থানা–পুলিশ সূত্র জানায়, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার প্রধান ফটকের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এর কিছুক্ষণের মধ্যে কাছের এলাকা যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে আরো তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে ইবাদুর রহমান নামের একজন অটোরিকশাচালক আহত হয়েছেন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। উড়ালসড়ক থেকে এসব ককটেল নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাজু বলেন, প্রথমে থানার প্রধান ফটকের সামনে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। কোথা থেকে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নন তাঁরা। কে বা কারা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, সেটি তাঁরা তদন্ত করে দেখছেন।
এর আগে দুপুর থেকে রাজধানীর আরো পাঁচটি স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে দুপুরে জুমার নামাজের পর মালিবাগের সোহাগ বাস কাউন্টারের সামনে দুটি, সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে আগারগাঁওয়ে বেতার ভবনের সামনে, সাড়ে ৬টার দিকে মহাখালী এলাকায়, রাত ৮টার দিকে বাবুবাজার ব্রিজের নিচে এবং ৯টার দিকে মগবাজার মোড়ে একটি করে ককটেল বিস্ফোরণ হয়। পরে রাতে সায়েন্সল্যাব এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ করা হয়। এতে ধোয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায় ওই এলাকা। আতঙ্কে মানুষদের দৌড়াদৌড়ি করতে দেখা যায়। আগারগাঁও ছাড়া বাকি স্থানগুলোতে উড়ালসড়কের ওপর থেকে নিচে ককটেল ছোড়া হয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নিয়াজ মেহেদী বলেন, শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণের কিছু ঘটনা ঘটেছে। কে বা কারা ঘটিয়েছে, তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
পুলিশ বলছে, কিছুদিন ধরেই শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা করে আসছেন। সর্বশেষ ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার দুপুরে গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের কয়েক শ নেতাকর্মী জড়ো হয়ে ঝটিকা মিছিল করেন। এ সময় তাঁরা সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেন। এক পর্যায়ে তাঁরা গুলশান ও আশপাশ এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। ছত্রভঙ্গ করতে গেলে তাঁরা পুলিশকে লক্ষ্য করেও ককটেল নিক্ষেপ করেন। পরে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়লে মিছিলকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি তাজা ককটেল জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৮৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গুলশানে মিছিলের পর রাজনৈতিক মহলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। কেউ কেউ এটিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতা বলেও উল্লেখ করেন। এমন পরিস্থিতিতে ১৬ সেপ্টেম্বর পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার ও ওসিকে প্রত্যাহার করে ডিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। এ ঘটনার এক সপ্তাহ পর আজও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
এ ছাড়া গত মঙ্গলবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে রায় দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এর কয়েক ঘণ্টা পর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে ওই দিন রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পরপর তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

 

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ