লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে সুনামগঞ্জের ৭ যুবক নিখোঁজ

যোগাযোগ ডেস্ক:

লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের চিকারকান্দি ও রনসী গ্রামের ৪ যুবকসহ ৭ জনের নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
নিখোঁজরা হলেন শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব পাগলা গ্রামের কৃষক রাজ মিয়ার পুত্র রিপন মিয়া (১৯), হযরত খানের পুত্র মামুন খান (২১), ইকরাম উদ্দিনের পুত্র এনামুল হক খান (১৮), রনসী গ্রামের একলাছ উদ্দিনের পুত্র তালহা আহমদ (২৪) ও পাথারিয়া গ্রামের আব্দুল হেকিমের ছেলে আব্দুল করিম। নিখোঁজ অন্যদের এখনও পরিচয় পাওয়া যায়নি।
জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, খাবার ও পানির সংকটে তাদের চোখের সামনেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়। মরদেহগুলোতে পঁচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় সেগুলো সাগরে ফেলে দিতে বাধ্য হন তারা।

সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে ৪২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা গ্রিসের উদ্দেশে লিবিয়ার তাবারুক উপকূল থেকে যাত্রা শুরু করে। নৌকাটিতে থাকা ৪২ জনের মধ্যে ৩৮ জনই ছিলেন বাংলাদেশি। নৌকাটি ঝড়ের কবলে পড়েছিল।
এতে খাবার ও পানির মজুত সাগরে ভেসে যায়। এরপরও বিপজ্জনক যাত্রা অব্যাহত রাখেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। গ্রিসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর হঠাৎ নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এতে নৌকাটি সাগরে ভাসতে থাকে।

টানা নয় দিন ভূমধ্যসাগরে ভেসে থাকার পর বাতাসের স্রোতে নৌকাটি মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলের কাছে পৌঁছে যায়। পরে মিশরের নিরাপত্তা বাহিনী তাদের উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে ১৮ জনকে মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুনামগঞ্জের আব্দুল হেকিমের ছেলে আব্দুল করিম ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন,‘ আমরা ৪২ জন গ্রিসের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছিলাম। গ্রিসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর আমাদের নৌকার ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যায়। ফলে আর সামনে এগোতে পারিনি।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted