পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রীর কড়া বার্তা

সীমান্তে কাঁটাতার বসাতে বিজিবি বা তৃণমূলের লোকজন বাধা দিলে কঠোর জবাব

অনলাইন ডেস্ক :

ভারত-বাংলাদেশ উন্মুক্ত সীমান্তের যেসব স্থানে এখনো কোনো বেড়া নেই, সেসব অরক্ষিত এলাকায় দ্রুত কাঁটাতারের বেড়া বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার। পশ্চিমবঙ্গের মসনদে বসার পরপরই অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ এবং বাংলাদেশের সঙ্গে থাকা অরক্ষিত সীমান্ত বরাবর নিশ্ছিদ্র কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ নিয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছিলেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।রাজ্য সরকারের এই অনড় অবস্থানের পর থেকেই সীমান্তের বিভিন্ন অংশে ঝুলে থাকা জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা কাটাতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেছেন বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) ও রাজ্য সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার (১৭ মে) ভারতের সরকারি ছুটির দিনেও সীমান্ত এলাকা সশরীরে পরিদর্শন করেছেন রাজ্যের খাদ্য, খাদ্য সরবরাহ ও সমবায় মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া।

রোববার পশ্চিমবঙ্গের কালিয়ানী সীমান্ত এলাকা বিস্তারিত পরিদর্শন শেষে সেখানকার বিএসএফ বর্ডার আউটপোস্টে (বিওপি) যান মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া। সেখানে তিনি বিএসএফের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তা ও বেড়া নির্মাণ নিয়ে বিশেষ বৈঠক করেন এবং সীমান্তে বসবাসরত স্থানীয় সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অরক্ষিত সব সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়া হবে। দেশের সুরক্ষার স্বার্থে কাঁটাতার লাগানো নিয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।’ তিনি আরও যোগ করেন, কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে যেসব কৃষকের ব্যক্তিগত জমি নেওয়া হচ্ছে, তারা সরকারের নির্ধারিত সঠিক দাম বা ক্ষতিপূরণ পেয়ে যাবেন, এটি নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। তবে কাজ করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) হোক বা পূর্ববর্তী তৃণমূলের লোকজন—কারও বাধাই সহ্য করা হবে না এবং কারও সঙ্গেই কোনো কম্প্রোমাইজ করা হবে না।

এদিকে মালদা জেলায় সরকারের এই বিশেষ নির্দেশের পরপরই স্থানীয় সীমান্ত এলাকায় চাষীদের কাছ থেকে জমি অধিগ্রহণের কাজ পুরোদমে শুরু হয়ে গেছে। মালদা জেলা প্রশাসনের নির্দেশে গত শুক্রবার (১৫ মে) সকাল থেকেই হবিবপুর ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের কর্মকর্তারা সীমান্ত এলাকার কৃষকদের কাছ থেকে জমি বুঝিয়ে নেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেন।

এই জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াটি মূলত হবিবপুর ব্লকের জাজইল অঞ্চলের ভবানীপুর, ভাবুক, আগ্রা, ইটাঘাটি ও কোটালপুরসহ ভারতের সীমান্ত ঘেঁষা বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় চালানো হয়। সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিটি এলাকাতেই সীমান্ত এলাকার কৃষকরা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে তারকাঁটার বেড়া তৈরির গুরুত্ব অনুধাবন করে এবং সরকারের দেওয়া ক্ষতিপূরণের বিনিময়ে স্বেচ্ছায় নিজেদের জমি হস্তান্তর করেছেন। এর ফলে দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা কাঁটাতার প্রকল্পের কাজ এবার দ্রুত শেষ হবে বলে আশা করছে বিএসএফ।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted