প্রথম ম্যাচের হতশ্রী স্পেন এবার আক্রমণের ঝড় তুলে উড়িয়ে দিল সৌদি আরবকে।
আটলান্টায় রোববার (২১ জুন) ‘এইচ’ গ্রুপের ম্যাচটি অনায়াসে ৪-০ গোলে জিতেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।
সব অনিশ্চয়তা কাটিয়ে শুরু থেকেই এ ম্যাচে মাঠে নামলেন লামিন ইয়ামাল এবং জাল খুঁজে নিতেও দেরি করলেন না তিনি। আগের ম্যাচে ৭১ মিনিটের সময় বদলি হিসেবে নেমেছিলেন তিনি। বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের প্রথম শুরুটা রাঙাতে মাত্র ১০ মিনিট সময় নিলেন বার্সেলোনা তারকা। প্রথমবার শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েই বাজিমাত। দুর্দান্ত এক গোলে স্পেনকে শুরুতেই এগিয়ে নিলেন এ তরুণ তুর্কি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজের প্রথম গোলের দেখা পেয়ে গেলেন ইয়ামাল। স্প্যানিশ ফুটবলের নতুন রাজপুত্রের শুরুটাও হলো তাই রাজকীয়ভাবেই।
বিশ্বকাপে স্পেনের হয়ে দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ট গোলদাতা হলেন ইয়ামাল (১৮ বছর ৩৪৩ দিন)। রেকর্ডটি গাভির, গত আসরে ১৮ বছর ১১০ বয়সে গোল করেছিলেন এই মিডফিল্ডার।
জাতীয় দলের হয়ে ২৭ ম্যাচ খেলে এই নিয়ে সাত গোল করলেন ইয়ামাল, সঙ্গে অ্যাসিস্ট ১২টি।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে ১৮ বছর বা তার কম বয়সি খেলোয়াড় হিসেবে ম্যাচের প্রথম গোল করার কীর্তি ছিল এত দিন মাত্র একজনের। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে ওয়েলসের বিপক্ষে মাত্র ১৭ বছর বয়সে ব্রাজিলের হয়ে ডেডলক ভেঙেছিলেন মহানায়ক পেলে। দীর্ঘ ৬৮ বছর পর পেলের সেই অনন্য রেকর্ডে ভাগ বসালেন ১৮ বছর বয়সি ইয়ামাল।
প্রথম গোলের খানিক পর আরেক ফরোয়ার্ড মিকেল ওইয়ারসাবালের গোলে এগিয়ে যায় স্পেন। সৌদি রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়াতে কোনো ভুল করেননি তিনি। অল্প সময়ের ব্যবধানে ওইয়ারসাবাল দ্বিতীয় গোল করেন। সৌদি আরব কিছু বুঝে ওঠার আগেই স্কোরলাইন ৩-০ করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের মুঠোয় নিয়ে নেয় স্পেন। প্রথমার্ধেই ৩–০ গোলে এগিয়ে যাওয়া স্পেন দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও পেয়ে যায় গোল। এবার অবশ্য নিজেদের জালেই বল জড়িয়েছে সৌদি আরব। ৪৯ মিনিটে মার্ক কুকুরেয়ার ভলি সৌদি গোলরক্ষক ফিরিয়ে দিলেও হাসান আল তামবাকতির শরীরে লেগে ঢুকে যায় জালে।
এখন পর্যন্ত ৮টি আত্মঘাতী গোল হয়েছে এবারের বিশ্বকাপে। শুধু ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপেই এর চেয়ে বেশি আত্মঘাতী গোল (১২) হয়েছে।
নির্ধারিত সময় শেষে অতিরিক্ত সময়ে অফসাইডে ফেরান তোরেসের একটি গোল বাতিল হয়। যোগ করা (৯২) সময়ে ডান প্রান্ত থেকে পেদ্রো পোরোর ক্রসে পা ছুঁইয়ে গোল করে ফেরান তোরেস। তবে ভিেআর রেফারি অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করে দিলে ৪-০ তেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় স্পেনকে।









