বুধবার | ১০ জুন, ২০২৬ | ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ | ২৩ জিলহজ, ১৪৪৭

নাটোর হাসপাতালে শিশু রোগীর মাকে সুইপারের ধর্ষণ

যোগাযোগ ডেস্ক :

নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে শিশু রোগীর মাকে ওষুধ নেওয়ার কথা বলে কৌশলে ডেকে ছয়তলার সিঁড়িঘরে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এক সুইপার। এ ঘটনা টের পেয়ে দুইজন ভিডিও ধারণ করে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ভিডিও ধারণ করা দুইজনও ওই নারীকে ধর্ষণ করে বলে জানা গেছে।

এ ঘটনার পর সম্মান বাঁচাতে হাসপাতালের তিন সুইপারের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ প্রথমে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা জানাজানি হওয়ায় সমালোচনার মুখে পরবর্তীতে মঙ্গলবার দুপুরে এ ঘটনায় নাটোর থানায় তিন সুইপারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পরপরই অভিযুক্ত তিন সুইপারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা না নেওয়ার সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে হাসপাতালে ভর্তি অন্য রোগী, তাদের স্বজন ও সচেতন এলাকাবাসী। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নাটোর শহরের এক রিকশাচালকের অসুস্থ কন্যা শিশুকে সর্দি জ্বরের চিকিৎসার জন্য তার মা ৫ জুন নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। রোববার (৭ জুন) রাত ১০টার দিকে হাসপাতালের আউট সোর্সিংয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত শহরের আলাইপুর সুইপার কলোনির বাসিন্দা সুইপার অমিত (২৩) ওষুধ নেওয়ার কথা বলে শিশুটির মাকে কৌশলে ডেকে হাসপাতালের লিফটে ছয়তলার সিঁড়িঘরে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

এ সময় বিষয়টি বুঝতে পেরে একইভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত একই মহল্লার বাসিন্দা অপর দুই সুইপার অনিল (২৪) ও প্রাঙ্গন (২৩) গোপনে ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করে। পরে তারা ওই নারীকে ভিডিও দেখিয়ে তাদের সঙ্গে দৈহিকভাবে মিলিত হতে বলে, নইলে ভিডিও ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। পরে হাসপাতালের সিঁড়িঘরে সুইপার অনিল ও প্রাঙ্গন ওই নারীকে আবারও ধর্ষণ করে। প্রথমে এমন কথা বলা হলেও পরে মামলায় তা বলা হয়নি। এদিকে দীর্ঘ সময় ধরে শিশু ওয়ার্ডে শিশুটির মা না থাকায় শিশুটির কান্নায় ওয়ার্ডে দায়িত্বপ্রাপ্তরা তাকে খুঁজে না পেয়ে হাসপাতালের নিরাপত্তা কর্মীদের সহায়তা নেন। পরে হাসপাতালের সিসিটিভির ফুটেজে তাদের ছয়তলার দিকে যেতে দেখে রাত ২টার দিকে হাসপাতালের সিঁড়িঘরে গিয়ে তাদের আটক করে নিয়ে আসে।

মামলায় বলা হয়, আটকের সময় সেখানে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মাহবুবুর রহমান, আনসার সদস্য আল আমিন ও সালাহ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হলে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের সম্মান যাওয়ার কথা বিবেচনা করে শিশু রোগীর মাকে ধর্ষণকারী হাসপাতালের এই তিন সুইপারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে তাদের ছেড়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। তবে হাসপাতালের একাধিক সূত্র বলছে, কোনো নিয়মনীতি অনুসরণ না করে অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়ার কারণে তিন সুইপারের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ঘটনার সময় দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা জানিয়েছেন, আটকের সময় তাদের জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত তিন সুইপার ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের কথা স্বীকার করে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মাহবুবুর রহমান বলেছেন, মামলায় তার উপস্থিতির যে তথ্য দেওয়া হয়েছে তা সঠিক নয়। তিনি পরের দিন সকালে হাসপাতালে এসে বিষয়টি শুনেছেন। এর আগেই সুইপারদের সঙ্গে রোগীর লোকজনের লিখিত একটা সমঝোতা হয়ে যায়। তারপরও তিনি নাটোর থানা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করেছিলেন। নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ মশিউর রহমান বলেছেন, ঘটনার পর এ বিষয়ে কোনো পক্ষ থেকেই তাকে কিছু জানানো হয়নি। তারপরও লোকমুখে বিষয়টি শুনেই ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে ধর্ষণের শিকার ওই নারীর পিতা বাদী হয়ে সুইপার অমিতের বিরুদ্ধে ধর্ষণের এবং অপর দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের সময় ভিডিও ধারণের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছেন। নাটোর থানার ওসি মুনসুর রহমান বলেছেন, মামলার পরপরই অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিকালেই তাদের আদালতে হাজির করা হয়েছে।

নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করছেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ