সাদা কিংবা কালো কাপড়ের ওপর আরবি লেখা পতাকা কিছুদিন ধরে ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বেশ কিছু এলাকায়। সেতু, সড়ক ও বিভিন্ন উঁচু ভবনের ওপর এই পতাকা উড়তে দেখা যায়। দেশের বিভিন্ন জায়গায় পতাকা হাতে এবং মোটরসাইকেলে করে মিছিল করা হচ্ছে। অনেকে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে এ ধরনের পতাকা বিক্রির ঘোষণা দেন। হঠাৎ একযোগে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সাদা ও কালো পতাকা ওড়ানোর বিষয়টি বহির্বিশ্বে ভুল বার্তা যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ফলে যারা পতাকা লাগাচ্ছেন, কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে বুঝিয়ে তাদের মাধ্যমে পতাকা সরিয়ে ফেলার উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ।
এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট তরুণ বা যুবক যে প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করছেন, সেই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকের মাধ্যমে কাউন্সেলিং করানো হচ্ছে। মাদ্রাসার ছাত্র হলে ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক তাঁর ছাত্রকে দেশের স্বার্থে এর নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে ধারণা দিচ্ছেন।
এদিকে, সামাজিক মাধ্যমের যেসব আইডি থেকে আরবি লেখা পতাকা ওড়াতে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে, তার পেছনে বড় ধরনের কোনো চক্রান্ত রয়েছে কিনা তাও তদন্ত করছে পুলিশ। সাইবার অপরাধ বিভাগ এই তদন্ত করছে। গত রোববার পুলিশ সদরদপ্তরের অপরাধ সভায় পতাকার বিষয়টি আলোচনায় আসে। ভার্চুয়াল এই সভায় ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার ছাড়াও ইউনিটপ্রধানরা যুক্ত ছিলেন। সভায় পুলিশপ্রধান মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, কারা কেন কী উদ্দেশ্যে সাদা-কালো পতাকা ওড়াচ্ছে, তা চিহ্নিত করতে হবে।
অতিরিক্ত আইজিপি বলেন, যারা পতাকা টানিয়েছেন, তাদের কারও ভাষ্য– ব্রাজিল, আর্জেন্টিনার পতাকা থাকলে কেন তারা এই ধরনের পতাকা ওড়াতে পারবে না? তবে এই ধরনের কর্মকাণ্ডে বিদেশে ভুল বার্তা যেতে পারে– এটি তাদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছি। এর বাইরে উগ্রপন্থি চিন্তা থেকে কেউ এটি করছেন কিনা, তা আমরা তদন্ত করছি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কাউন্সেলিং করা গেলে ভুল ধারণা সংশোধন করা যায়। ভুল ব্যাখ্যাগুলো বিশেষজ্ঞদের দ্বারা যৌক্তিকভাবে খণ্ডন করা হয়। এ ছাড়া মনস্তাত্ত্বিক সহায়তায় করা হয়ে থাকে। এর মধ্য দিয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা সম্ভব। পতাকা ইস্যুতে পুলিশ এই কৌশল ব্যবহার করছে।
এদিকে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরবি হরফসংবলিত সাদা পতাকা টানানোর বিষয়টি সরকারের নজরে আছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে তিনি বলেন, এটি সরকার খতিয়ে দেখছে। কারণ, এটি নিয়ে বৈশ্বিকভাবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভুল বার্তা যাওয়ার আশঙ্কা আছে। এ সম্পর্কে আমরা সচেতন আছি। এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। এর পেছনে নিশ্চয়ই কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে। সেটিই আমরা খতিয়ে দেখছি।
গতকাল দুই জেলার এসপি ও একজন ডিআইজির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পুলিশ সদরদপ্তর থেকে পতাকা ব্যাপারে পাওয়া নির্দেশনা অনুসারে তারা কাজ করছেন। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সতর্ক আছে। সামাজিক মাধ্যমে নজর রাখা হচ্ছে। কিছু আইডি তারা শনাক্ত করেছেন। এ বিষয়টি এখন পর্যন্ত কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে সমাধান করতে অগ্রাধিকার পুলিশের।
ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন সমকালকে বলেন, ‘পতাকার বিষয়ে আমাদের গোয়েন্দারা কাজ করছে। এখনও বলার মতো তথ্য পাইনি।’
-সমকাল









