মন্ত্রী বললেন মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলেছে,মন্ত্রণালয় করল সতর্ক

অনলাইন ডেস্ক :

[ppsp_buttons]

প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছিলেন, গত সোমবার থেকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হয়েছে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য। এ বক্তব্যের একদিন পর বুধবার মন্ত্রণালয় বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করে বলেছে, আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি না আসা পর্যন্ত মালয়েশিয়া যেতে ইচ্ছুক কর্মীরা যাতে কারও সঙ্গে লেনদেন না করেন।

মঙ্গলবার সিলেটে মন্ত্রী বলেছিলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টি ও বিদ্যমান শ্রমবাজার সম্প্রসারণে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় (সোমবার) মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবার উন্মুক্ত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য দেশের শ্রমবাজারও উন্মুক্ত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মন্ত্রণালয়ের ২৪ ঘণ্টার মাথায় মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি না আসা পর্যন্ত দেশটিতে গমনেচ্ছু কর্মীদের কারও সঙ্গে কোনো প্রকার যোগাযোগ ও আর্থিক লেনদেন না করার পরামর্শ দিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার আগে কোনো প্রকার মেডিকেল টেস্ট বা এ বাবদ অর্থ লেনদেন থেকে বিরত থাকারও নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় বলেছে, মালয়েশিয়া গমন বা এ সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে অভিযোগ অথবা তথ্যের জন্য প্রবাসী কল সেন্টারের ১৬১৩৫ (দেশ থেকে) এবং +৮৮০৯৬১০১০২০৩০ (বিদেশ থেকে) নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। মালয়েশিয়া সংক্রান্ত ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা মো. হেদায়েতুল ইসলাম মণ্ডলের সঙ্গে +০২-৪১০৩০২৪১, ০১৭১৬০৪৮১১৫ নম্বর অথবা dsemployment1@probashi.gov.bd ইমেইলেও যোগাযোগ করা যাবে।

২০২৪ সালের ১ জুন থেকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যায়। গত ২১ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর আলোচনা হয়। শ্রমবাজার উন্মুক্ত হওয়ার আগেই মন্ত্রী কেন ঘোষণা দিলেন- এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের কেউ নাম প্রকাশ করে বক্তব্য দেয়নি। তবে একাধিক কর্মকর্তা সমকালকে বলেছেন, শ্রমবাজার উন্মুক্তে নতুন পদ্ধতি নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব এসেছে মালয়েশিয়া থেকে। মন্ত্রী সম্ভবত একে শ্রমবাজার উন্মুক্তের বার্তার হিসেবে ধরে বক্তব্য দিয়েছেন।

আরিফুল হকের বক্তব্য জানতে পারেনি এ প্রতিবেদক। মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে ৫ বছর মেয়াদী সমঝোতা স্মারক সই করে বাংলাদেশ। এর শর্ত অনুযায়ী বাংলাদেশের তৎকালীন মন্ত্রী এমপির প্রতিষ্ঠানসহ ২৫ রিক্রুটিং এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর কাজ দিয়েছিল মালয়েশিয়া। এ এজেন্সিগুলো সিন্ডেকেট নামে পরিচিত পায়। ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে এই পদ্ধতিতে। কর্মী প্রতি ৭৯ হাজার টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হলেও এজেন্সিগুলো সাড়ে ৫ লাখ টাকা করে নেয়। সব প্রক্রিয়া শেষ করেও নির্ধারিত সময়ে মালয়েশিয়া যেতে পারেননি ১৭ হাজার কর্মী। সম্প্রতি পুলিশ এই মামলায় অভিযোগপত্র দিয়েছেন আদালতে।

-সুত্র : সমকাল

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted