তৃতীয়বারের মতো সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে স্থাপন করা নতুন দানবাক্স খোলা হয়েছে। প্রায় ৩৪ দিন পর শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে মাজার প্রাঙ্গণে টাকা গণনা শুরু হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে। এ সময় তিনটি ডেগ ও পাঁচটি দানবাক্সের অর্থ হিসাব করা হয়।
গণনা শেষে মাজারের ডেগ ও ছেগ থেকে নগদ ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা, ২ ভরি ১ রতি স্বর্ণ এবং ১৬ ভরি ২ আনা রূপা পাওয়া গেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রাও পাওয়া গেছে।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও ডেগের টাকা গণনার কাজে জেলা প্রশাসক, এডিসি, ম্যাজিস্ট্রেটসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। তাদের প্রতি সিলেটবাসীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
তিনি জানান, মাজারের দানবাক্স ও ডেগ থেকে নগদ ৭০ লাখ ৮৭ হাজার ৬৫২ টাকা, ২ ভরি ১ রতি স্বর্ণ এবং ১ ভরি ২ আনা রূপা পাওয়া গেছে। এছাড়া বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে, বিদেশি মুদ্রার মধ্যে ৩১.১১ পাউন্ড, ৩২৪৮ ভারতীয় রুপি, ৬০ পাকিস্তানি রুপি, সৌদির ৭০ রিয়াল, মালয়েশিয়ার ৮৩ রিঙ্গিত, ৪ মার্কিন ডলার, নেপালের ১০০ রুপি, ওমানের ১০০০ বায়সা, আরব আমিরাতের ৬৪ দিরহাম, ইরাকের ২৫০ দিনার, তুর্কির ৯০ লিরা, ভিয়েতনামের ১০০০ ডং, জাপানের ১০০০ ইয়েন, কাতারের ১১২ রিয়াল, লেবাননের ১০ পাউন্ট, মিসরের ১০ পাউন্ট, .৪০ ইউরো, বাহরাইনের ১ পয়সা, কানাডিয়ান ১ ডলার।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, নজরানা হিসেবে পাওয়া গরু, ছাগল, হাঁস ও মুরগির হিসাব মাজার কর্তৃপক্ষের কাছে রয়েছে। এসব পশুর অনেকগুলো জবাই করে লঙ্গরখানায় খাওয়ানো হবে।
তিনি আরও বলেন, মাজারের দানের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। খুব শিগগিরই তা গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে মাজারের দানের অর্থসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সংগৃহীত অর্থ রাতেই ব্যাংকে জমা দেওয়া হবে।
এর আগে নতুন দানবাক্স স্থাপনের পর দুই দফা টাকা গণনা করা হয়েছিল। প্রথমবার স্থাপনের মাত্র চার দিনের মাথায় গত ২২ জুন দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৫৪৯ টাকা। এরপর দ্বিতীয়বার ১১ জুলাই দানবাক্স খোলা হলে পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। দুই দফায় দানবাক্স থেকে পাওয়া নগদ বাংলাদেশি অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৬৪ লাখ ১০ হাজার ৭০২ টাকা। এর সঙ্গে বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ও অন্যান্য সামগ্রীও ছিল।
প্রায় ৩৪ দিন পর এবার দানবাক্স খোলায় আগের দুই দফার তুলনায় অর্থের পরিমাণ আরও বেশি হবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে এবার ডেগ, ছেগ ও দানবাক্সের হিসাব মিলিয়ে পাওয়া অর্থের বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা পৃথকভাবে হিসাব দিয়েছেন।










