মাধবপাশাকে মডেল ইউনিয়ন গড়ার প্রত্যয় রিয়াজ হোসেনের

‘চেয়ারম্যান নয়, মানুষের সেবক হয়ে কাজ করতে চাই’

নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের তৎপরতা বাড়ছে। সামাজিক কর্মকাণ্ড, জনসম্পৃক্ততা ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে নিজেদের প্রার্থিতার জানান দিচ্ছেন তারা। এরই মধ্যে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছেন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত মোহাম্মদ রিয়াজ হোসেন।

রিয়াজ হোসেনের দাবি, মাধবপাশা ইউনিয়নের মানুষের অনুরোধেই তিনি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নির্বাচিত হলে ইউনিয়নকে একটি ‘মডেল ইউনিয়ন’ হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়

ছাত্ররাজনীতির মধ্য দিয়ে বিএনপির রাজনীতিতে পথচলা শুরু করেন মোহাম্মদ রিয়াজ হোসেন। তিনি গুঠিয়া আইডিয়াল কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি, মাধবপাশা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে বাবুগঞ্জ উপজেলা যুবদলের ২ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

রাজনীতির পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন তিনি। বর্তমানে তিনি দারোগার হাট বাজার ব্যবসায়ী কমিটির আহ্বায়ক, ঈশ্বর নারায়ণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সদস্য, রওজাতুল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসার সাধারণ সম্পাদক এবং আল সাফা জামে মসজিদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

রিয়াজ হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী এলাকার মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সহায়তা, অসুস্থ মানুষের চিকিৎসায় সহযোগিতা এবং রাস্তা-ঘাটসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য, এসব কর্মকাণ্ড তিনি প্রচারের জন্য নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই করে থাকেন।

‘জনগণের অনুরোধেই প্রার্থী হয়েছি’

চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার কারণ জানতে চাইলে মোহাম্মদ রিয়াজ হোসেন বলেন, “জনগণের অনুরোধেই আমি প্রার্থী হয়েছি। মাধবপাশার মানুষ বিশ্বাস করেন, আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে তাদের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।”

তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চান তিনি। একই সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সরকারি বিভিন্ন ভাতা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে স্বচ্ছতার সঙ্গে পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।

উন্নয়ন পরিকল্পনায় অবকাঠামো ও নাগরিক সেবা

মাধবপাশার উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রসঙ্গে রিয়াজ হোসেন বলেন, সরকারি অর্থায়নে নিজের উদ্যোগে ইউনিয়নের বেশ কিছু রাস্তার কাজ বাস্তবায়নে তিনি ভূমিকা রেখেছেন। আগামী দিনে ইউনিয়নের যোগাযোগব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে আরও কাজ করতে চান।

তার দাবি, মাধবপাশা ইউনিয়নের উন্নয়নকে সামনে রেখে বেশ কিছু অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রস্তাব উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে দেওয়া হয়েছে। এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ইউনিয়নের মানুষের নাগরিক সুবিধা আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

‘মাদক-সন্ত্রাস-চাঁদাবাজমুক্ত ইউনিয়ন চাই’

নির্বাচিত হলে নিজের প্রধান লক্ষ্য তুলে ধরে রিয়াজ হোসেন বলেন, “আমি নির্বাচিত হলে মাধবপাশা ইউনিয়নকে একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলব। এখানে থাকবে না মাদক, থাকবে না সন্ত্রাস, থাকবে না চাঁদাবাজি। একটি নিরাপদ, সুখী, সমৃদ্ধ ও উন্নয়নমুখী ইউনিয়ন হিসেবে মাধবপাশাকে দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই।”

নিজের প্রার্থিতার বিষয়ে তিনি বলেন, “বিগত দিনেও আপনাদের পাশে ছিলাম, এখনও আছি। আপনাদের অনুরোধেই প্রার্থী হয়েছি। আপনারাই আমাকে মাঠে নামিয়েছেন, স্বপ্ন দেখিয়েছেন। সেই স্বপ্নের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছাতে আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন।”

সবশেষে তিনি বলেন, “আমি শুধু চেয়ারম্যান হতে চাই না; মাধবপাশার মানুষের সেবক হয়ে কাজ করতে চাই।”

আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে মাধবপাশা ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এখন ভোটারদের প্রত্যাশা, প্রার্থীদের অঙ্গীকার এবং নির্বাচনী মাঠের সমীকরণ—সব মিলিয়ে মাধবপাশায় নির্বাচন ঘিরে বাড়ছে আলোচনা।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ