শুক্রবার | ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ | ৪ বৈশাখ, ১৪৩৩ | ২৮ শাওয়াল, ১৪৪৭

হাদি হত্যা: ফয়সালকে পালাতে সহায়তাকারী দুই ভারতীয় গ্রেপ্তার

যোগাযোগ রিপোর্ট

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ ওসমান হাদির হত্যার ঘটনায় সরাসরি জড়িত দুই সহায়তাকারীকে ভারতের মেঘালয় পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর মিন্টু রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানান, ঘটনার দিনই হাদিকে গুলি করা ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ ওরফে রাহুল এবং মোটরসাইকেলচালক আলমগীর শেখকে শনাক্ত করা হয়। তাদের গ্রেপ্তারে তাৎক্ষণিকভাবে সাভার, হেমায়েতপুর, আগারগাঁও ও নরসিংদীতে একাধিক অভিযান চালানো হয়।

ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে ডিএমপির একটি টিম ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্তবর্তী এলাকা পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে।
তিনি বলেন, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পর ফয়সাল ও আলমগীর ঢাকা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে আমিনবাজার যান। পরে সেখান থেকে মানিকগঞ্জের কালামপুর হয়ে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী একটি প্রাইভেটকারে করে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে পৌঁছান। আসামিদের আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করার আগেই তারা সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়।

নজরুল ইসলাম আরও জানান, হালুয়াঘাটের আগে মুন ফিলিং স্টেশনে ফিলিপ ও সঞ্জয় নামে দুই ব্যক্তি তাদের সীমান্ত পার করানোর জন্য অপেক্ষা করছিল। সীমান্ত পার হওয়ার পর ফিলিপ তাদের ভারতের মেঘালয় রাজ্যে ‘পুত্তি’ নামে এক ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করে। পরে পুত্তি ট্যাক্সিচালক ‘সামী’ এর মাধ্যমে তাদের মেঘালয়ের তুরা এলাকায় পৌঁছে দেয়।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, আমরা অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলে মেঘালয় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পেরেছি, তারা ইতোমধ্যে পুত্তি ও সামীকে গ্রেপ্তার করেছে।

আমরা ধারণা করছি, আসামিরা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করেছে।
এ পর্যন্ত এই ঘটনায় মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। জব্দকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি বিদেশি পিস্তল, ৫২ রাউন্ড গুলি, ম্যাগাজিন, ছোরা, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, ভুয়া নম্বরপ্লেট, হাদিকে বহনকারী অটোরিকশা এবং ৫৩টি অ্যাকাউন্টের বিপরীতে ২১৮ কোটি টাকার স্বাক্ষরিত চেক।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তারদের মধ্যে ছয়জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং চারজন সাক্ষী ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
হাদির হত্যাকারীরা ভারতে পালিয়েছে এ বিষয়ে নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা গ্রেপ্তারকৃতদের অভিযুক্তদের ছবি দেখিয়েছি। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, মূল অভিযুক্তরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে।

হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কারা রয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলে পুরো বিষয়টি আরও পরিষ্কার হতো। আমাদের কাছে কিছু তথ্য রয়েছে, তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। আমাদের ধারণা, ৫ আগস্টের পর হাদি যেভাবে ভোকাল ছিল এবং একটি আদর্শকে ধারণ করেছিল, সেই আদর্শ বা ওই সময় ক্ষতিগ্রস্ত কোনো গোষ্ঠী এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকতে পারে।

হত্যাকাণ্ডের মোটিভ সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিবি প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছি। এটি রাজনৈতিক কারণেও হতে পারে। তবে তদন্তের স্বার্থে আপাতত তাদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।

আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে নজরুল ইসলাম বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্দি বিনিময় চুক্তি রয়েছে। আমরা আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক উভয়ভাবেই আসামিদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ