কারিগরি ত্রুটিতে বন্ধ হয়ে যাওয়া ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-২ আজ রবিবারই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহে ফিরছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর রাত ১২টার দিকে ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি বেড়ে লোডশেডিংও বৃদ্ধি পেয়েছিল।
আদানি পাওয়ার আজ রবিবার সকালে পাঠানো এক বার্তায় জানিয়েছে, ইউনিট-২ ভোর ৫টা ১৭ মিনিটে (বাংলাদেশ সময়) নির্ধারিত সময়ের আগেই সফলভাবে চালু করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ১১টার মধ্যে ইউনিটটি জাতীয় গ্রিডে সিনক্রোনাইজ (সংযুক্ত) হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে দুপুরের আগেই ইউনিটটি থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রীয় সংস্থা পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি) সূত্রে জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর রাত ১২টার দিকে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
এর আগে রাত ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত কেন্দ্রটির দুটি ইউনিট থেকে ঘণ্টায় এক হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছিল। একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সরবরাহ নেমে আসে ৭৫৮ মেগাওয়াটে।
এর আগে কয়লা সরবরাহ সংকটেও কেন্দ্রটির উৎপাদন কমে এসেছিল। ঝড়ের কারণে গত ৭ আগস্ট থেকে কয়লা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে।
পরে আগস্টের শেষ দিকে কয়লা সরবরাহ বাড়লে উৎপাদনও বাড়তে শুরু করে। দিনের বেলায় কেন্দ্রটি প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল। উৎপাদন বাড়ার পরই একটি ইউনিটে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে সেটি বন্ধ হয়ে যায়।
আদানি কেন্দ্রের ইউনিট বন্ধ হওয়ার সময় দেশের বিদ্যুৎব্যবস্থাও চাপে ছিল। গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৩৪৫ মেগাওয়াট।
এর বিপরীতে সরবরাহ করা হয় প্রায় ১২ হাজার ৭৮৮ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি দাঁড়ায় তিন হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াট। ওই দিন গড়ে প্রতি ঘণ্টায় দুই হাজার ৬৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়।









