ছেলে বন্ধুর সাথে ভিডিও করায়

ঠান্ডা মাথার প্ল্যানিংয়ে মেয়েকে নির্মম খুন করলো বাবা ও ভাইয়ের

অনলাইন ডেস্ক :

ছেলে বন্ধুর সঙ্গে ভিডিয়ো ভাইরাল। পরিবারের সম্মান রক্ষা বাবা ও ভাইয়ের ভয়ংকর কাণ্ড। হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ২২ বছরের সোফিয়া ফারুকে নৃশংস খুন করল বাবা ও ভাই। গত ১২ অগাস্ট রাতে মেয়েকে খুনের পর পুরো ঘটনাটিকে পথ দুর্ঘটনা বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়। অভিযুক্তদের নাম মহম্মদ ফারুক নবাবখান (৫৬) ও হাবিল ফারুক (৩৮)। ইতোমধ্যেই দু’জনকেই গ্রেফতার করেছে পুলিস। ঘটনাটি আমদাবাদের।
পুলিস জানিয়েছে, জুহাপুরা এলাকার একটি হাসপাতালে রিসেপশনিস্ট হিসেবে কাজ করতেন সোফিয়া। তাঁর বাবা ও ভাই পেশায় লোহার ফ্যাব্রিকেশন ব্যবসায়ী। প্রায় তিন মাস আগে এক ছেলে বন্ধুর সঙ্গে সোফিয়ার একটি ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিবারে তীব্র অশান্তি শুরু হয়। তরুণীকে অন্য ছেলেদের সঙ্গে কথা বলতেও কড়াভাবে বারণ করা হয়েছিল।
সমাজ ও সম্প্রদায়ের চোখে পরিবারের তথাকথিত ‘সম্মান’ নষ্ট হচ্ছে- এই আক্রোশ থেকেই তরুণীকে খুনের ছক কষে বাবা ও ছেলে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ১২ অগাস্ট রাতে সোফিয়াকে বাইকে বসিয়ে ঘেলজিপুরার একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। হাবিল নিজের প্যান্টের ভেতর আগে থেকেই একটি লোহার হাতুড়ি লুকিয়ে রেখেছিল।

এম ডিভিশন ট্রাফিক পুলিসের পরিদর্শক ইউ বি ঢাকাদা জানান, নির্জন জায়গায় পৌঁছানোর পর বাবাকে সঙ্গে নিয়ে সোফিয়ার মাথায় হাতুড়ি দিয়ে পরপর তিনটি জোরাল আঘাত করে হাবিল। এরপর রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে রাস্তায় এনে ফেলে রেখে একটি অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কা বা হিট অ্যান্ড রানের ভুয়ো গল্প সাজানো হয়। পুলিসকে বিভ্রান্ত করতে অভিযুক্তরা দাবি করে, সমৃদ্ধ ডেয়ারির কাছে পেছন থেকে একটি গাড়ি এসে তাদের বাইকে ধাক্কা মারে।

মাথা ও পায়ে গুরুতর চোট পাওয়া সোফিয়াকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সোলা সিভিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ১৩ অগাস্ট চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তদন্তে নেমে পুলিসের সন্দেহ হলে জেরা শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত জেরার মুখে ভেঙে পড়ে বাবা ও ছেলে পুরো হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে। ধৃতদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করেছে পুলিস।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted