স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া সেই চিকিৎসক

‘বিষয়টি ভাইরাল হবে বুঝতে পারিনি’

যোগাযোগ ডেস্ক:

কুমিল্লায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর খাবারের স্বাদ নেওয়ার চামচে ফুঁ দিয়ে ভাইরাল জিহাদুল ইসলাম রিয়াজ নামের এক চিকিৎসক। এ ঘটনার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। প্রতিক্রিয়ায় ডা. রিয়াজ বললেন, বিষয়টি এমনভাবে ভাইরাল হবে বুঝতে পারিনি।

বুধবার (৩ জুন) ওই চিকিৎসকের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। একজন চিকিৎসকের এমন তোষামোদ নিয়ে নেটিজেনরা নানা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

এর আগে গত ২৫ মে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর খাবারের চামচে দূর থেকে ফুঁ দেন হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. জিআরএম জিহাদুল ইসলাম রিয়াজ।

ওইদিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে যান। এ সময় তিনি বিভিন্ন ওয়ার্ডের পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা ও চিকিৎসাসেবার মান পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি রোগীদের জন্য প্রস্তুত করা খাবারের গুণগত মান যাচাই করতে রান্নাঘরে গিয়ে নিজেই খাবার পরীক্ষা করেন। পরিদর্শনের একপর্যায়ে তরকারি গরম থাকায় মন্ত্রী চামচে ফুঁ দিয়ে ঠান্ডা করার চেষ্টা করেন। তখন তার পাশে থাকা ডা. জিহাদুল ইসলাম রিয়াজও দূর থেকে একই চামচে ফুঁ দেন। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে নানা সমালোচনা শুরু হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডা. রিয়াজ কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার খয়রাবাদ এলাকার বাসিন্দা। তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। ছাত্রজীবনে তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। ৩২তম বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। কর্মজীবনের শুরুতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জুনিয়র কনসালট্যান্ট হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীতে ওএসডি হিসেবে মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে দায়িত্ব পালন শেষে পুনরায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যোগদান করেন।

এ বিষয়ে ডা. জিহাদুল ইসলাম রিয়াজ বলেন, মন্ত্রী কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় আমি পাশে ছিলাম। তিনি যে খাবারটি পরীক্ষা করার জন্য নিয়েছিলেন, সেটি অনেক গরম ছিল। তাই স্বাভাবিকভাবেই ঠান্ডা করার জন্য ফুঁ দিয়েছিলাম। পরে দেখলাম বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে এবং বিভিন্ন ফেসবুক পেজে পোস্ট করা হয়েছে। বিষয়টি এমনভাবে ভাইরাল হবে বুঝতে পারিনি।

তিনি বলেন, মন্ত্রীকে তোষামোদ করার কোনো উদ্দেশ্য আমার ছিল না। আমি শুধু গরম খাবারটি ঠান্ডা করার জন্য ফুঁ দিয়েছিলাম। অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। মানুষ বিষয়টিকে যেভাবে দেখেছে, তা আমি আগে ভাবিনি। আমরা পাশাপাশি থাকলে অনেক সময় হঠাৎ করে কিছু কাজ করে ফেলি, কিন্তু সেগুলো এতটা চিন্তা করে করা হয় না। এখন বুঝতে পারছি, এ ধরনের বিষয়েও মানুষ অনেক গুরুত্ব দেয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের বিষয়ে আরও সচেতন থাকব।-যুগান্তর

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted